কুড়িগ্রামে চৈত্রের টানা বৃষ্টিতে দিশেহারা কৃষক

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় টানা দুই সপ্তাহের বৃষ্টিতে মৌসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষতির কারণে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে কৃষকরা। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক পাট বীজ বপনের জন্য জমি প্রস্তুত করতে পারেননি।

বুধবার (১ এপ্রিল) উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভূরুঙ্গামারীর ১০টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে গম, ১ হাজার ৭০ হেক্টরে ভুট্টা, ১ হাজার ৭০ হেক্টরে সবজি এবং ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ হেক্টর জমির ভুট্টা হেলে পড়েছে এবং ২ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়েছে।

কৃষকরা জানান, অস্বাভাবিক এই টানা বৃষ্টিতে পাটশাক, আলু, বেগুন, করলা, ঢ্যাঁড়স, কচুসহ বিভিন্ন সবজি এবং বোরো ধান ও ভুট্টা ক্ষতির মুখে পড়েছে। চৈত্র মাসে এমন বৃষ্টিপাত আগে কখনও দেখেননি বলেও জানান তারা। বিশেষ করে নিচু জমিতে পানি জমে বোরো ধান ও ভুট্টার খেত ডুবে গেছে। ঝড়ো হাওয়ার কারণে অনেক ক্ষেতের ভুট্টা গাছ মাটিতে হেলে পড়েছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বোরো ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বাড়ার আশঙ্কাও করছেন কৃষকরা।

উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের কৃষক এরশাদ আলী বলেন, তিন বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় ঝড়ো হাওয়ায় গাছগুলো হেলে পড়েছে। এতে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে না।

আরেক কৃষক মোজাফফর হোসেন বলেন, এমনিতেই আলু উৎপাদনে খরচ বেশি হয়েছে, লাভ পাইনি। এর ওপর টানা বৃষ্টি, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বেগুন, পাটশাক, করলা, ঢ্যাঁড়সসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা ঠিকমতো দামও পাব না। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।

সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের ঝুকিয়া বিল এলাকার কৃষক সুররত আলী জানান, ধানের খেতে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। এভাবে থাকলে আমার বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ২৭০ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে পাট বীজ এবং ৫০০ জন কৃষকের মধ্যে আউশ ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আমন মৌসুমে প্রণোদনার আওতায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত