'যারা জামায়াতের কবর রচনা করতে চেয়েছে তাদের পালিয়ে যেতে হয়েছে'

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, যারা জামায়াতে ইসলামীর কবর রচনা করতে চেয়েছে তাদের পালিয়ে যেতে হয়েছে। এখনও যারা জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করবে তাদেরও পালিয়ে যেতে হতে পারে। তিনি বলেন, গতানুগতিক ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মতো জামায়াতে ইসলামীর শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়। জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক রাজনৈতিক ও মানবিক সংগঠন। জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যক্রমে জনগণ বিশ্বাস করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। এ জন্যই জামায়াতে ইসলামীর ৪০ লাখ ভোট এখন আড়াই কোটিতে পৌঁছেছে। জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিলেও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে মেইনিস্ট্রিম হতে দেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক একজন উপদেষ্টা যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে জামায়াতে ইসলামী রমনা থানার উদ্যোগে রাজধানীর মগবাজার নজরুল একাডেমিতে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের ভূমিকা জনগণ সন্দেহের চোখে দেখছে। সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের পালস্ বুঝতে না পারলে আবারও দেশ ছেড়ে যেতে হতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে সরকার জাতির সঙ্গে তামাশা করছে। আজকের প্রধানমন্ত্রী জাতিকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। জনগণ রাজপথে নেমে আসলে সরকারের অহংকার আর দাম্ভিকতা ধূলো মিশে যাবে।

মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান বলেন, ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ব্যতীত মানুষ শোষণের হাত থেকে মুক্তি পাবে না। মানুষকে শোষণের হাত থেকে মুক্ত করতে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান।

মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবদুস সাত্তার সুমন বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দিয়ে যেই সরকার গঠিত হয়েছে সেই সরকার সব অস্বীকার করে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে। ৫ আগস্টের আগে বিএনপি কোনও কার্যকর আন্দোলন করতে পারেনি। তারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রেসকিপশনে জামায়াতে ইসলামী বাদ দিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল কিন্তু তাদের রাজপথে পাওয়া যায়নি। জামায়াতে ইসলামী রাজপথে ছিল, আছে এবং থাকবে। যেই রক্তের বিনিময়ে জুলাই বিপ্লব অর্জিত হয়েছে সেই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন না হলে জুলাই যোদ্ধারা আবারও রাজপথে নেমে আসবে।

তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পরাজিত করার চেষ্টা করবে। এজন্য সকল জনশক্তিকে সজাগ থেকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।

মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও রমনা থানা আমির মো. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি ফারুক হোসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রমনা থানা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট সুলতান উদ্দিন, থানা অফিস ও বায়তুলমাল সম্পাদক আকবর হোসেন, থানা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য আবু মুসা প্রমুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে রমনা থানার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত