মুক্তিযুদ্ধের প্রথম রণকৌশল নির্ধারণের দিন আজ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম

আজ ৪ এপ্রিল ঐতিহাসিক ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে ভাস্বর এ দিবসটি সরকারিভাবে পালন করা না হলেও এবার গুরুত্বের সঙ্গে পালনের উদ্যোগ নিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড।

অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আলহাজ জি কে গউছ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এছাড়া থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। এদিন সকাল ১০টায় তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধের (বুলেট বেদী) সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। উদ্বোধন করবেন মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর। পরে এক সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনীর গণহত্যার পর সামরিক বাহিনী, ইপিআর, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বাঙালি সদস্য ও তরুণ দেশপ্রেমিকরা স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এর মধ্যে ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানেই প্রণীত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল, যা ‘তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি’ নামে পরিচিত। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৭ জন কর্মকর্তা ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র’ বইয়ে এর উল্লেখ আছে। বইয়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর পাঁচটি বাঙালি রেজিমেন্ট ছিল। এর মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গণহত্যার আগে থেকেই বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ ও প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেছিল। বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাইরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে প্রশিক্ষণরত সেনা সদস্যসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত বাঙালি সেনাদের বড় একটি অংশ পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। অসংগঠিত ও বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হওয়া এই প্রতিরোধ যুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য তেলিয়াপাড়ায় বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় এমএজি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে। ওই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বাহিনী সম্পর্কিত সাংগঠনিক ধারণা এবং কমান্ড কাঠামোর রূপরেখা প্রণীত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় এপ্রিলের ১০ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার তথা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। পরে আরও চারটি সামরিক অঞ্চল ঘোষণা করে সেগুলোর সেক্টর কমান্ডারদের নাম ঘোষণা করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করলেও তেলিয়াপাড়ার ৪ এপ্রিলের সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকের দিনটিকে সরকারিভাবে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সময় মুক্তিযোদ্ধারা নিজ উদ্যোগে দিবসটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সভা-সমাবেশ করে আসছেন। দিবসটি সরকারিভাবে পালনের দাবি দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময় সরকারি অনুদানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণসহ স্থানটির সৌর্ন্দযবর্ধনে কিছুটা কাজ করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক বলেন, ‘ওই সভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানে সরব ভূমিকা ছিল। বিগত সরকার আমলে এর সঠিক ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তেলিয়াপাড়ার বৈঠক মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার। আমরা চাই সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরতে। তাই এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দিবসটিকে সরকারিভাবে পালনের জন্য মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন মহল দাবি জানিয়ে আসছে। আমরা চাই দিবসটি সরকারিভাবে পালনের জন্য শিগগিরই সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত