জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিএনপি জুলাই সনদকে হৃদয়ে ধারণ করে। বিএনপি জুলাই সনদকে চেতনায় ধারণ করে। জুলাই সনদ এদেশের ২০২৪ এর জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তের অক্ষরে লিখিত। জুলাই সনদ নিজেই স্বতন্ত্র। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। জুলাই সনদ কার্যকর করতে পারবে বর্তমান এই পার্লামেন্ট। জুলাই সনদ কিভাবে কার্যকর হবে সেটা জুলাই সনদের মধ্যেই বলে দেওয়া আছে। সুতরাং জুলাই সনদ হওয়া না হওয়া নিয়ে গণভোট বাতিল হওয়া নির্ভর করে না। এটা আমরা পার্লামেন্টে সুস্পষ্ট ভাবে বলেছি।

আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামে খাল খনন কর্মসূচির উব্দোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদই বলছে, আমাকে বাস্তবায়ন করো সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে। এটা জুলাই সনদে সুস্পষ্টভাবে লিখিত আছে। সুতরাং, যারা বলছেন গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে, এটা মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য। 

বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই যে জুলাই গণভোট অধ্যাদেশ বলছেন, এটাও তো রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত অধ্যাদেশ। এগুলো মানতে পারবেন, আবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করতে চান। অথচ, রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় উনারা বয়কট করলেন, বললেন উনারা ভাষণ শুনবেন না। এইটা হলো জামাতি চরিত্র। এইটা হলো মুনাফিকি চরিত্র।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদ বলতে বলতে মুখে ফেনা উঠে গেছে আপনাদের। জুলাই সনদের ২২ নম্বর ক্লজে লেখা আছে, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলো কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারীদের প্রার্থী করবে। বিএনপি প্রায় ৫ শতাংশ নারীকে প্রার্থী করেছে, যদিও ৫ শতাংশ পুরোপুরি পারেনি।

জ্বালানি তেল সংকটে আইনী প্রয়োগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এক শ্রেণির মানুষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য তেল বোতলে ভরে, ড্রামে ভরে রেখে আবার তারা তেল নিতে আসছে। আমরা এতদিন সফট (নমনীয়) লাইনে ছিলাম। আমরা বলেছি, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে প্রয়োজনবোধে কঠোর শাস্তি আমরা প্রয়োগ করব। এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

জ্বালানি তেলে সংকট রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনকে বলছি, আপনারা কঠোর হোন। আপনাদের সাথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা থাকবেন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দেশকে বাঁচাতে হলে খাল নদীখনন ও দখল উচ্ছেদের বিকল্প নেই। যে যত বড়ই শক্তিশালী হোক না কেন খাল জলাশয় ও নদী দখলমুক্ত করে খনন করা হবে।

আগামী ১৮ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঝিনাইদহের শৈলকুপায় খান খনন কর্মসূচিতে অংশ নিবেন বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা খাল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত