জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সবুজায়নের নতুন দিগন্তে চট্টগ্রাম ডিসি পার্ক

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী সীতাকুণ্ডের ডিসি পার্কে ১০ সহস্রাধিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, ডিসি পার্ককে একটি আদর্শ, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক মাসের মধ্যে পার্কটিতে ৫৪ প্রজাতির মোট ১০ সহস্রাধিক গাছ রোপণ করা হবে। উদ্বোধনের দিনই ২ হাজার গাছ রোপণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, পরিকল্পিতভাবে পার্কের চারপাশে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু গাছ রোপণ করা হবে, যাতে পার্কের সৌন্দর্য বাড়ে এবং ওপর থেকে দেখলেও এটি দৃষ্টিনন্দন মনে হয়। পাশাপাশি পার্কের উত্তরাংশে ফলজ বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে জাম, পেয়ারা, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের গাছ লাগানো হবে। এতে পাখির আবাসস্থল তৈরি হবে এবং দর্শনার্থীরাও প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকার উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, ঔষধি ও বিরল প্রজাতির গাছ রোপণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পার্কটিতে প্রযুক্তির ছোঁয়ার পাশাপাশি একটি শীতল ও সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। নির্মল বাতাস ও দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে মানুষের সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং নিরাপদ বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষ যেন পরিবার নিয়ে নিরাপদে সময় কাটাতে পারে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে আনন্দ উপভোগ করতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। ইতোমধ্যে পার্কটি সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং এটিকে একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্যপূর্ণ পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ফুল উৎসবে ১৪০ প্রজাতির ফুল প্রদর্শিত হয়েছিল উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, সেই আয়োজন সারা দেশে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। দর্শনার্থীদের মতামত ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে পার্কের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে হারিয়ে যাওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত