নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে কর্মসূচি পালন শুরু করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতেই এই দাবি তুলছেন দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারী।
আন্দোলনের প্রথম ধাপে আজ ৫ এপ্রিল থেকে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলা শহরে কর্মসূচি চলবে। এই সময়ে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন কর্মচারীরা। এরপর আগামী ১০ এপ্রিল উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে শান্তিপূর্ণ আলোচনা সভা ও প্রতিনিধি সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (১ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) কর্মসূচির বিষয়ে সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দীর্ঘ ১১ বছর নতুন পে-স্কেল না হওয়ায় কর্মচারীদের জীবন চালানো এখন দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ এবং বয়স্ক বাবা-মায়ের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে সাধারণ কর্মচারীরা ক্রমাগত ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। আসন্ন বাজেটে এই দাবির প্রতিফলন না ঘটলে কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে কর্মচারীরা সরকারের প্রতি নমনীয় অবস্থানও দেখিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, সরকার চাইলে একবারে না করে ধাপে ধাপে এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারে। এতে কর্মচারীদের পূর্ণ সম্মতি রয়েছে। তারা মনে করেন, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব।
পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন কর্মচারীরা। তাদের দাবি, পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়মিত আয়কর দিতে প্রস্তুত, যা সরকারের কোষাগারে বড় অঙ্কের অর্থ যোগান দেবে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করা হয়েছে। কর্মচারীরা আশাবাদী যে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দ্রুত এই সমস্যার একটি সম্মানজনক সমাধান আসবে।
