সরকারের ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট বিএনপি

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

বিএনপি তাদের গঠিত সরকারের ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, সরকার গঠনের পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে দলটি।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর এটি ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।

বৈঠকে সরকারের ৪৭ দিনের কার্যক্রমের পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করা হয়। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা ও ব্যস্ততা-সকাল ৯টায় সচিবালয়ে অফিস করা থেকে শুরু করে ছুটির দিনেও কাজ চালিয়ে যাওয়া-এসবের জন্য স্থায়ী কমিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানায়।

বিএনপি নেতাদের পর্যালোচনায় উঠে আসে, সরকার গঠনের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ ও খাল খনন উদ্যোগ জনমনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ফেলেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ বলেও আলোচনায় উঠে আসে।

বিএনপি নেতাদের মূল্যায়ন, সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা এবং নির্বাচনী ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি সঠিকভাবে কাজ করা।

সংসদে গণভোট নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবন্ধ-বিষয়টি নেতারা আবারও তুলে ধরেন। তারা জানান, নোট অব ডিসেন্ট বাদে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে সরকার। বিএনপি যেভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেছে, সেভাবে তারা সেটি বাস্তবায়ন করবে। এ জন্য আগামী দিনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে সরকার।

বৈঠকে দল পুনর্গঠন ও জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়ও উঠে আসে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলকে শক্তিশালী করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় কাউন্সিলের চিন্তা করছে তারা। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দলের সপ্তম কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি। ২০১৬ সালে দলটির সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা।

এছাড়া অঙ্গ সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলটির ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশের মেয়াদ উত্তীর্ণ। বিগত নির্বাচনে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এবং কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজিব আহসান সরকারের প্রতিমন্ত্রীও হন। এতে অঙ্গ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলকে শক্তিশালী করতে দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি সরকারের ৪৭ দিনের কর্মসূচি পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়েছে।

কোরবানির ঈদের আগে বিএনপির কাউন্সিল হবে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব বলেন, ঈদের আগে সম্ভব নয়। এজন্য কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান (ভার্চুয়ালি), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান (ভার্চুয়ালি) ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত