দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইরান থেকে মুক্ত হয়ে নিজ দেশ ফ্রান্সে ফিরে এসেছেন দুই ফরাসি নাগরিক সেসিল কোহলার এবং জ্যাক। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তারা প্যারিসে পৌঁছান। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ইরানে কারাবন্দি থাকার পর তাদের এই মুক্তিকে ফ্রান্সের বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই মুক্তি একটি আন্তর্জাতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে, ফরাসি নাগরিকদের মুক্তির বিনিময়ে ফ্রান্স তাদের দেশে আটক ইরানি নাগরিক মাহদিয়েহ এসফান্দিয়ারিকে মুক্তি দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই দ্বিপাক্ষিক পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতার পথ তৈরি করে, যার চূড়ান্ত ফল হিসেবে ফরাসি নাগরিকরা মুক্তি পান।
ফরাসি নাগরিকরা নিরাপদে দেশে ফেরায় গভীর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মেক্রোঁ। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা শেষে তাদের ফিরে আসা পরিবারগুলোর জন্য বড় পাওনা। একই সঙ্গে এই জটিল প্রক্রিয়ায় সফল মধ্যস্থতা করার জন্য তিনি ওমান সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে এলিসি প্যালেস বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুক্তির বিস্তারিত শর্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
২০২২ সালে সেসিল ও জ্যাককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল ইরান। তখন থেকেই তারা বন্দি ছিলেন। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ফ্রান্স সরাসরি সংঘাতের পথে না হেঁটে অত্যন্ত সতর্ক ও নমনীয় কূটনৈতিক পদ্ধতি গ্রহণ করে। প্যারিস চেয়েছিল কোনোভাবেই যেন ইরানে অবস্থানরত ফরাসি নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে না পড়ে। মূলত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের এই কৌশলই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বন্দি বিনিময় ঘটনাটি তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ও সংলাপভিত্তিক কূটনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে ফ্রান্স একদিকে যেমন নিজ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের সাথে আলোচনার একটি পথ খোলা রেখেছে।
