সমাজের চোখে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, বাস্তবতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক হৃদয়বিদারক কষ্টের গল্প। এক মধ্যবয়সী বাবা তিন সন্তানের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন অভাব, অনটন আর অসহায়ত্বের সঙ্গে।
জানা যায়, ওই ব্যক্তি দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। বড় ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। আর সবচেয়ে ছোট মেয়েটির বয়স এখনো দেড় বছর পূর্ণ হয়নি।
গত ৭ এপ্রিল রাতের একটি ঘটনা তার জীবনের কষ্টকে আরও গভীরভাবে সামনে নিয়ে আসে। পরিবারের জন্য খাবার হিসেবে ছিল সামান্য শাক দিয়ে ডাল রান্না। বড় ছেলে না খেয়েই উঠে যায়, তার পেটে যেন আর যাচ্ছেনা প্রতিনিয়ত এ খাবার, পরিবারের অভাব সেতো বুঝে না সে নিজের চাহিদা হয়তো চাপা দিয়ে শুয়ে পরেছে।
বাবা আর ছোট ছেলে খাবার খেতে বসলে, ডাল দিয়ে রান্না শাক দুজন কোন রকম খাবার খেলে শেষ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের মা নিজে না খেয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও তিনি বলেন “আমি খাব না”, তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন ঘরে আর কোনো খাবার অবশিষ্ট ছিল না।
সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্যটি দেখা যায় তাদের ছোট মেয়েকে ঘিরে। শিশুটি ক্ষুধার্ত হয়ে বারবার কান্না করতে থাকে এবং মায়ের দুধ পান করতে চায়। কিন্তু পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে মায়ের বুকেও দুধ আসে না। ফলে শিশুর কান্না ও মায়ের অসহায়ত্ব একসাথে মিলিয়ে তৈরি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।
পরিবারের কর্তা জানান, “বাইরে থেকে কেউ বুঝবে না, আমি কতটা ভেঙে পড়েছি ভেতরে ভেতরে। মুখে হাসি থাকলেও ভেতরে আছে গভীর কষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “চল্লিশ বছর বয়সে এসে মনে হচ্ছে, জীবন শুধু পরীক্ষা নিয়েই যাচ্ছে। তবুও বেঁচে আছি শুধু সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে। এ বাঁচা যেনো বেঁচে থাকা নয়, অধ্য মরা হয়ে বেঁচে থাকা জীবন্ত এক মানুষ।
রাতভর দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে কেটে যায় তার সময়। তার মনে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায়, পরদিন সকালে সন্তানরা স্কুলে যাওয়ার আগে আদৌ কিছু খেতে পারবে কি না।
এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং সমাজের অগোচরে থাকা হাজারো নিম্নআয়ের পরিবারের প্রতিচ্ছবি। যেখানে প্রতিদিনের জীবন মানে টিকে থাকার লড়াই, আর একজন বাবার সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা, সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারার অসহায়তা।
নারায়ণগঞ্জে অবৈধ তেল কারখানায় অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা