বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া’ ক্রিকেট বোর্ড বললেন হাসনাত, কড়া জবাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বলে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর করা মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, কোনও দখলদারিত্ব নয়, বরং কৃতি ক্রিকেটার তামিম ইকবালের নেতৃত্বেই এখন বিসিবি পরিচালিত হচ্ছে।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১১তম দিনের অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল-২০২৬’ নিয়ে আলোচনাকালে তাদের মধ্যে তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

মানবাধিকার কমিশনকে ‘দলীয়করণের’ শঙ্কা এবং বিসিবি-বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এ সময় উভয় নেতা একে অপরের প্রতি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।

বিলটির আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘সুরক্ষা ও দায়মুক্তির এই বিলে কমিশন বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বোঝানো হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক প্রতিরোধ আর ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সংজ্ঞাকে কে ডিফাইন করবে? এর ভার দেওয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে ল্যাপস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদি এটি ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী চলে, তবে তা হবে পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি কমিশন। যা অতীতে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন আর নাই, এটা হয়ে গেছে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’। যেভাবে দখল করা হয়েছে! ঠিক এই মুহূর্তে ২৮ জন বিচারককে তাদের ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে মতামত প্রকাশের কারণে শোকজ করা হয়েছে। এই বাস্তবতায় মানবাধিকার কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান আমরা কতটা পাবো তা নিয়ে সন্দিহান। বিসিবির মতো আমরা আবার ‘বাপের দোয়া কমিশন’ দেখতে চাই না।’

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। এটি জুলাই যোদ্ধাদের অঙ্গীকারনামার অংশ। গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ ও তাদের পেটোয়া বাহিনী জুলাই যোদ্ধাদের ওপর যে নিপীড়ন চালিয়েছে, তার বিরুদ্ধে তাদের সুরক্ষা দেওয়া জরুরি।’

ক্রিকেট বোর্ড প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে আসলো? অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ক্ষমতার প্রয়োগ করে সারা বাংলাদেশে জেলা কমিটি ও কাউন্সিলরদের প্রভাবিত করা হয়েছিল। হাইকোর্টে রিট পেন্ডিং রেখে একতরফা বডি করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার ইনকোয়ারি বোর্ড করে সেই অনিয়ম খুঁজে বের করেছে। এখন ক্রিকেট বোর্ডের আহ্বায়ক কমিটি হয়েছে এদেশের বড় তারকা তামিম ইকবালকে দিয়ে। আমরা কোনো বাপের দোয়া-মায়ের দোয়া করি নাই। এতদিন শুনতাম মায়ের দোয়া পরিবহন আছে, আজকে সংসদ সদস্যের কল্যাণে দেখলাম বাপের দোয়া কমিটিও আছে!’

মানবাধিকার কমিশন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকার একটি বালখিল্যপনা আইন করে দিয়ে গেছে। আমরা আইসিটি অ্যাক্ট ও গুম আইনের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শক্তিশালী ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক কারা দখল করেছিল, তা এদেশের মানুষ জানে। সেই ফ্যাসাদে আমরা যেতে চাই না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত