সংকট কাটেনি তেলে কমছে মুরগির দাম

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম

ঢাকার বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। আবার নামমাত্র যেটুকু সরবরাহ করছেন, তাও রেখেছেন শর্তের বেড়াজালে। তেল নিলে সঙ্গে নিতে হবে অন্য পণ্য। এ অবস্থায় ভোগান্তি বেড়েছে ভোক্তার। একই সঙ্গে বাজারে ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কমতে শুরু করেছে।

ঢাকার কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলো ৫ লিটারের বোতল মিললেও সেগুলোর সরবরাহ কম। এক ও দুই লিটারের বোতল বেশিরভাগ দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে কিছু দোকানে খোলা সয়াবিন তেল মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলাররা তেলের সরবরাহ দিচ্ছেন না। এ অবস্থা মাসখানেকের বেশি সময় ধরে চললেও গত তিন-চার দিন ধরে একেবারে অর্ডার নেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন। বাড্ডার মুদি দোকানি মিজান সুপার স্টোরের মালিক মিজানুর রহমান জানান, ‘ডিলাররা তেলের অর্ডার নিচ্ছেন না। কোনো কোনো কোম্পানি বলছে, তেল নিতে হলে সঙ্গে অন্য পণ্য নিতে হবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সব জেলা প্রশাসককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে অতিরিক্ত মূল্যে ভোজ্যতেল বিক্রির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোজ্যতেল সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার ঢাকার কারওয়ানবাজার ও শান্তিনগর বাজার পরিদর্শনে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নানা অভিযোগ পেয়েছেন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে।

জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা তেলের দাম বাড়ানোর জন্য বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে এক ধরনের চাপ তৈরি করেছেন। তারা প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন সরকারের কাছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৭ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ১৯৫ টাকা। এ ছাড়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৯৫৫ টাকা।

খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮৫ টাকা, পাম তেল বর্তমান প্রতি লিটার নির্ধারিত দাম ১৬৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭৭ টাকা। এদিকে বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়।

এদিকে তেলের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও কমতে শুরু করেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। সাম্প্রতিক সময়ে ২২০ টাকায় উঠে যাওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে। খানিকটা কমলেও এখনো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪১০ টাকা কেজি দরে। যা কদিন আগেও ৪৬০ টাকায় উঠেছিল। খামারিরা বলছেন, খামারে খামারে বার্ড ফ্লুসহ নানা রোগে ব্যাপক হারে মুরগি মরে যাচ্ছে। যে কারণে সরবরাহ কমে গেছে এবং দামও বেড়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সোনালি মুরগির চাহিদাও অনেক কমে গেছে।

এ ছাড়া মুরগির দাম কমতে শুরু করলেও কিছু বেড়েছে ডিমের দাম। ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১১০ টাকার মধ্যে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত