মন্ত্রণালয় সফল হলে সরকারও সফল হবে

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৪ এএম

নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরাসরি দেশের তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কাজ করে। তাই এ মন্ত্রণালয়ের সফলতার সঙ্গে বিএনপি সরকারের সাফল্যও জড়িত।

গতকাল রবিবার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ড. মঈন খান বলেন, ‘আমাদের এই মন্ত্রণালয় ব্যতিক্রমধর্মী মন্ত্রণালয়। জনগণকে সরাসরি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অগ্রগণ্য। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করলে পুরো দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। কারণ, এ মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে কাজ করে। মন্ত্রণালয় সফল হলে সরকারও সফল হবে।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিএনপি সরকারের নিযুক্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করায় ওই মন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনেই ড. আব্দুল মঈন খানসহ পাঁচজন মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হন। নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. মঈন খানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দপ্তর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে ড. মঈন খানের তিন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার সব মানুষের সেবা করবে। তবে দরিদ্র মানুষকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিগত ১৭ বছরে ধনিক শ্রেণিকে সেবা দিতে গিয়ে দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দরিদ্র মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছেন। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে। দেশের জনগণই (প্রধানমন্ত্রীর) তার অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, শুধু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের সব পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। বিএনপি সরকার সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিকব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী এ সময় সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সব নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে মেনে বিএনপি সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করবে। তিনি এ সময় বলেন, ‘বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা আইনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি, আইনের পথে যেতে চাই। আমরা কোনো উইচ হান্টিংয়ে (কাউকে অন্যায়ভাবে দোষী বানিয়ে হয়রানি করা) বিশ্বাস করি না।’

ড. মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, তার কিন্তু একটি সাংবিধানিক পদ্ধতি আছে। আজ যদি বলে দিই যে অমুক দিন নির্বাচন হবে, এই কথার কোনো অর্থ থাকবে না। কাজেই এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তরটা কিন্তু আমার দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত হবে না। ইনশাল্লাহ বিএনপি সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘোষণা করবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের নির্বাচনের কথা তুলে ধরে মঈন খান বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আপনারা বিগত নির্বাচনগুলো দেখেছেন। ২০০৮-এর, ২০১৪ এর নির্বাচন, ২০১৮ এর নির্বাচন এবং ২০২৪ এর নির্বাচন। ২০০৮ কিন্তু বিশেষ করে বলছি। এই চারটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করেনি। দীর্ঘদিন পরে আমরা সৌভাগ্যবান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আজ আপনাদের সামনে এসেছি।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশের বিচারব্যবস্থাকেও তারা (বিগত আওয়ামী লীগ সরকার) ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচারের রায়, জজ সাহেব লিখত না, মন্ত্রণালয়ে লেখা হতো। এই দেশে, সত্যিকারের অর্থে গণতান্ত্রিক যে সিস্টেম, সেই সিস্টেমটাকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) ফিরিয়ে আনার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমরা সেই পথে হাঁটছি।’

তিনি বলেন, আমার অগ্রাধিকার হলো জনগণ। আমাদের জনগণের সরকার, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা এই সরকার গঠন করেছি।

এদিকে, ড. আব্দুল মঈন খানকে অভ্যর্থনা জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ঘিরে লুটপাট ও দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে তারা কাজ করছেন। এ সময় স্থানীয় সরকার সচিব মো. শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত