নুসরাত হত্যার সাত বছর

এখনো পুলিশি পাহারায় পরিবার, ফেসবুকে অপপ্রচারে শঙ্কা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। মাদরাসা অধ্যক্ষের শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল মারা যান প্রতিবাদী নুসরাত। বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রায়ের সাত বছর পার হলেও এখনো তা কার্যকর না হওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। 

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ এ মামলায় অভিযুক্ত ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। তবে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি ঝুলে থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

নুসরাতের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা নুসরাতের কবর জিয়ারত করেছেন। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেও এবার তাদের দেখা যায়নি।

এদিকে এখনো পুলিশ পাহারায় দিন কাটছে নুসরাতের পরিবারের। প্রতিদিন শিফটের মাধ্যমে দুইজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়ির সামনে দায়িত্ব পালন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসামিপক্ষের স্বজনদের অপপ্রচারে শঙ্কিত পরিবারটি।

নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘নুসরাতের মৃত্যু আমরা মেনে নিয়েছি। জানি, সে আর ফিরে আসবে না। এখন আমরা শুধু রায় কার্যকরের অপেক্ষায় আছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের হেয় প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল। শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

ফেনী জেলা কারাগারের জেলার আফজল হোসেন জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন। অন্য আসামিরা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন কারাগারে আছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মেজবাহ উদ্দিন খাঁন বলেন, রায় ঘোষণার পর বছরের পর বছর তা ঝুলে থাকলে অপরাধীদের মধ্যে উল্টো উৎসাহ তৈরি হতে পারে। তাই ডেথ রেফারেন্সের শুনানি দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর করা জরুরি।

উল্লেখ্য, নুসরাত হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মাকসুদ আলমসহ মোট ১৬ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত