'চাকার' তারিকের থেমে গিয়ে বোলিঙে ক্ষুব্ধ মিচেলকে বোঝালেন শরফুদ্দৌলা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

ফের আলোচনায় রহস্যময় স্পিনার উসমান তারিক। তবে এবার উইকেটের জন্য নয়, বরং তার বোলিং অ্যাকশন এবং অদ্ভুত ‘পজ’ বা ডেলিভারির আগে থেমে যাওয়ার ভঙ্গি নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের তারকা ব্যাটার ড্যারিল মিচেল।

শুক্রবার পিএসএলে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের দেওয়া ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করছিল রাওয়ালপিন্ডিজ। ইনিংসের অষ্টম ওভারে উসমান তারিক যখন বল করতে আসেন, তখন ড্যারিল মিচেল স্ট্রাইকে। তারিক তার স্বভাবজাত ভঙ্গিতে বল ছুড়তে গিয়ে মাঝপথে হুট করে থেমে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে মিচেলও ব্যাটিং স্ট্যান্স ছেড়ে সরে দাঁড়ান। 

একবার নয়, পরপর দুবার একই ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারিককে উদ্দেশ্য করে মিচেলকে কিছু বলতে দেখা যায়। এরপর বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত এগিয়ে এসে মিচেলের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ধারাভাষ্য বক্সে থাকা রমিজ রাজা অবশ্য মিচেলের ওপর কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলেন, "আমার মনে হয় মিচেলকে আরও একটু প্রস্তুত থাকতে হবে।"

কিন্তু ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ড্যারিল মিচেল। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটে এমন বোলিং অ্যাকশন মেনে নেওয়া যায় না, 'সে (উসমান তারিক) বারবার বোলিংয়ের মাঝে থেমে যাচ্ছিল। সে যদি থামতে পারে, তবে আমিও স্ট্যান্স থেকে সরে দাঁড়াতে পারি। ক্যামেরন গ্রিনসহ অনেকেই বলেছে সে একজন চাকার। আমি এর আগে কখনো এত বাজে বোলিং অ্যাকশন দেখিনি। এ ধরনের থেমে থেমে বল করা পাড়ার ক্রিকেটে চলতে পারে, কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটে এটি একেবারেই অনুচিত।'

মিচেলের এই কাণ্ড দেখে তাকে বাহবা দিয়েছেন ভারতীয় অফ-স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এর আগে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়ও তারিকের এই অ্যাকশন নিয়ে কথা বলেছিলেন অশ্বিন, 'যদি ডেলিভারির সময় বিরতি বা 'পজ' দেওয়ার সময়টা নির্দিষ্ট না হয়, তবে ব্যাটসম্যানের সরে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সাবাস মিচেল!'

অশ্বিন আরও মনে করিয়ে দেন যে, এমসিসি-র ৪১.৪ ধারা অনুযায়ী ব্যাটসম্যানের মনঃসংযোগ নষ্ট করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে রিদম নষ্ট করা অবৈধ। তবে তারিকের ক্ষেত্রে যুক্তি দেওয়া হয় যে, এটিই তার স্বাভাবিক অ্যাকশন।

মাঠের এই নাটকীয়তা ছাপিয়ে রাওয়ালপিন্ডিজের ভাগ্য বদলায়নি। ড্যারিল মিচেল ৩০ রান করে আউট হন। তরুণ সাদ মাসুদ ১৯ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত **৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস। এই নিয়ে আসরে টানা পাঁচ ম্যাচে হারের মুখ দেখলো রাওয়ালপিন্ডিজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত