কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীম জাহাঙ্গীর (৫৫) নামে এক কথিত পীরের আস্তানায় হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ সময় হামলাকারীরা পীরের আস্তানা বা দরবার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেন।
গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে অবস্থিত ওই পীরকে হত্যাশেষে তার আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজেকে পীর দাবিদার শামীম রেজা ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের কোরআন অবমাননাকর বক্তব্যের একটি পুরনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তার আস্তানায় হামলা চালান। হামলকারীরা শামীম রেজাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে আস্তানায় আগুন দেন। পরে শামীমের ভক্তরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, এর আগেও ২০২১ সালের মে মাসে একইভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের এক নেতা। ওই মামলায় পুলিশ শামীমকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পেয়ে পুনরায় তার আস্তানায় ফিরে এসে ভক্তদের নিয়ে আসর বসান।
হামলার ঘটনার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি পুরনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুসল্লি ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কথিত পীর শামীমের আস্তানায় হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেছে। হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। শামীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
