দরবারে প্রধানমন্ত্রী

সশস্ত্র বাহিনী কোনো দলের সম্পদ নয়

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য গঠিত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান।’ গতকাল রবিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পেশাদারিত্বে কোনো আপস না করতে বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে চায় সরকার। ২০২৪ সালে দেশ এবং দেশের জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণকে আশান্বিত করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময় এবং দৃশ্যমান প্রশাসনিক অচলাবস্থায় সশস্ত্র বাহিনী অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে।’ ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এরপর দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের সময় দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়।’

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।

দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন। বিশেষত, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সব সদস্যকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণ করা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং সর্বোপরি কর্ম, সততায়, শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দেন। দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।

আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট : বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট।

এদিকে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, হজ ব্যবস্থাপনাকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য এবং হয়রানিমুক্ত করতে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একগুচ্ছ যুগান্তকারী নির্দেশনা প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ধর্মীয় এই পবিত্র কাজে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে হজের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে বিমান ভাড়া এবং সৌদি আরবে আবাসন খরচ যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছেন। বিগত সময়ের হজ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অনিয়ম ও দুর্নীতির পথ বন্ধ করতে কঠোর তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। প্র্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, হজযাত্রীরা যেন আল্লাহর মেহমান হিসেবে যথাযথ সম্মান ও সেবা পান, তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। কমিটির এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন হজ মৌসুমে হাজিদের খরচ ও ভোগান্তি উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট আগামী শুক্রবার রাত থেকে শুরু হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও হজ ফ্লাইটের শিডিউলে বড় ধরনের কোনো বিঘœ ঘটবে না বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে হজযাত্রীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেন।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ২৬০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৩৪৪ জন যাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

সভার শুরুতে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি ২০২৬ সালে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা অগ্রগতি ও সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। তিনি সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জও তুলে ধরেন। 

সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন ছাড়াও বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী  আফরোজা খানম ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার এনডিসি, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার ও হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদারকে কমিটিতে কো-অপ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত