বিরোধীদলীয় নেতা বললেন

সরকার জুলাই সনদকে উপেক্ষা করছে

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার জুলাই সনদকে উপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আগামীতে চূড়ান্তভাবে পরাজয় হবে ফ্যাসিবাদের, বিজয় হবে জনগণের। সেই চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এক পা কেটে ফেলার পরও জুলাই যোদ্ধার অনুভূতি প্রয়োজন হলে পুরো শরীরই দেব! কিন্তু জুলাই কাউকে ছিনিয়ে নিতে দেব না।

গতকাল রবিবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-এর মুক্তিযোদ্ধা হলরুমে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যখনই বিএনপি সরকার গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ, দুদক অধ্যাদেশ, পুলিশ অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বাতিল করেছে, তাৎক্ষণিক আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে ঘৃণার সঙ্গে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি। ফ্যাসিবাদের পক্ষে বিএনপি দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেওয়ায় আমরা এক মুহূর্তের জন্যও সংসদে থাকিনি; সঙ্গে সঙ্গে ওয়াকআউট করেছি। রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করে বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিরোধী দল যতদিন সংসদে লড়াই করতে পারবে, ততদিন সংসদে থাকবে, লড়তে না পারলে, কথা বলতে না পারলে এক মিনিটও থাকবেন না। বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা, ধোঁকাবাজি ও গাদ্দারি করে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েমের ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকার। তবে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের সুযোগ করে দেওয়া হবে না। সংসদে টু-থার্ড ক্ষমতাবলে বিএনপি গায়ের জোরে কাজ করছে।

শহীদ আলিফের পিতা গাজীউর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ যা করতে দুই বছর নিয়েছিল, বিএনপি তা দুই মাসেই করেছে। জুলাইয়ের স্লোগান ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, কিন্তু সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে প্রধান বিচারপতি ও চিফ প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দিয়েছে। আরেকটি স্লোগান ছিল ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’; অথচ বর্তমান সরকার মেধা ও কোটা দুটোই উপেক্ষা করে পরিবারতন্ত্র কায়েম করছে।

শহীদ মেহেরুন নেছার পিতা মোশারফ হোসেন স্পিকারের সমালোচনা করে বলেন, স্পিকার একাত্তরের যোদ্ধা, আর হাসনাত আবদুল্লাহরা জুলাই যোদ্ধা। তিনি জুলাই যোদ্ধাদের কারণেই স্পিকার হতে পেরেছেন। তাই জুলাই যোদ্ধাদের অসম্মান করে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে স্পিকারসহ সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সংসদ সচিবালয় ঘেরাও করা হবে।

শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ বলেন, জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল নতুন বাংলাদেশ গড়া। সেই স্বপ্ন ও চেতনার প্রতিফলন রয়েছে জুলাই সনদে। কিন্তু তা উপেক্ষা করে পুরনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আমরা মেনে নিতে পারি না।

জুলাই যোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গণভোটে জনগণের রায় পাওয়ার পরও বিএনপি তা মানছে না। জুলাই সনদ থেকে একটি দাঁড়ি বা কমাও বাদ দেওয়া যাবে না। জুলাই যোদ্ধা কামরুল আহসান গণভোট, গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিলের তীব্র নিন্দা জানান।

শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন শেখ জামাল হোসেন, সানজিদা খানম দ্বীপ্তি, লাখী বেগম, শহিদুল ইসলাম, কবির হোসেন, তাজুল ইসলাম প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জুলাইকে রাজনৈতিক বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করিনি, করবও না। বিএনপি জুলাইকে রাজনৈতিক ও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে। সরকার নিজেদের কাজের বৈধতার জন্য কখনো একাত্তর, কখনো চব্বিশকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, বিএনপি কোনো আন্দোলনে ছিল না; তারা কেবল আন্দোলনের ফসল ভোগ করেছে। বিএনপি জুলাই সনদ কিংবা নিজেদের ইশতেহারের ৩১ দফার কোনোটিই পালন করছে না।

আরও বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইযহার, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবদুল্লাল আল মামুন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত