নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) আইন বিভাগের গবেষণা কেন্দ্র 'এনএসইউ সেন্টার ফর লিগ্যাল রিসার্চ'-এর আয়োজনে ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস’ (মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান) শীর্ষক সার্টিফিকেট কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) যৌথ অর্থায়ন ও সহযোগিতায় এই কোর্সের আয়োজন করা হয়।
এই উদ্যোগটি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত আঞ্চলিক প্রকল্প 'প্রিভেন্টিং অ্যান্ড অ্যাড্রেসিং ট্রাফিকিং ইন হিউম্যান বিয়িংস অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস ইন সাউথ এশিয়া'-এর একটি অংশ। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া জোরদার করা, আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি এবং এসব অপরাধ দমনে মানবাধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটানো।
উক্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ও আইন বিষয়ে আগ্রহীদের এক বৈচিত্র্যময় সমাগম ঘটে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইইউ প্রতিনিধিদলের ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড মাইগ্রেশন বিভাগের অ্যাটাশে পিনার এলম্যান; ইউএনওডিসির মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান শাখার অপরাধ প্রতিরোধ, ফৌজদারি বিচারবিষয়ক কর্মকর্তা এবং আইন প্রয়োগ বিশেষজ্ঞ মার্কাস ভিনিসিউস পেস এবং ইউএনওডিসি দক্ষিণ এশিয়ার ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর তাসনিম বিনতে করিম। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নেছার ইউ আহমেদ।
স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন এনএসইউর আইন বিভাগের প্রধান ও ব্যারিস্টার অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম তাঁর প্রারম্ভিক বক্তব্যে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষাবিদদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার ওপর জোর দেন, যাতে আইনগুলো সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর হয়। এ ছাড়া তিনি আইন বিভাগের পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ সার্টিফিকেট কোর্সগুলোর কথা উল্লেখ করেন এবং বিস্তৃত পরিসরে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এগুলোর অবদানের কথা তুলে ধরেন।
ইইউ প্রতিনিধি পিনার এলম্যান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, যা সাধারণত নারী ও শিশুদের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন শিক্ষা ও বিচারিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিরোধের ওপর জোর দেয়।’ মার্কাস ভিনিসিউস পেস তরুণ প্রজন্মকে জীবনের বৃহত্তর লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। অন্যদিকে, তাসনিম বিনতে করিম সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে ইউএনওডিসি দক্ষিণ এশিয়ার চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এরপর মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মতো জটিল বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে পরিশ্রম ও একাগ্রতার স্বীকৃতিস্বরূপ কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের সনদ বিতরণ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. নেছার ইউ আহমেদ এসব সমস্যা সমাধানে ইউএনওডিসি এবং ইইউর বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেন এবং এমন একটি সময়োপযোগী সার্টিফিকেট কোর্স আয়োজনে অনুষ্ঠানের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া তিনি অনুষ্ঠানে মূল্যবান বক্তব্য রাখার জন্য বক্তা ও অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সবশেষে অতিথি বক্তাদের সম্মাননাস্মারক (ক্রেস্ট) প্রদান করা হয়। উপস্থিত সবার অংশগ্রহণে গ্রুপ ছবি তোলার মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
