এবার সাগর অবরোধে চীন

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৫ এএম

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্কারবরো শোল এলাকায় নিয়ন্ত্রণ জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। স্কারবরো শোলের প্রবেশমুখে জাহাজ মোতায়েন ও ভাসমান প্রতিবন্ধক বসানোর মাধ্যমে তারা কার্যত ওই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি শক্তিশালী করছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দক্ষিণ চীন সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফিলিপাইনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যেই তারা এ পদক্ষেপ নিল। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, স্কারবরো শোলের প্রবেশপথে চারটি মাছ ধরার নৌকা, একটি চীনা কোস্ট গার্ড বা নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি ভাসমান প্রতিবন্ধক অবস্থান করছে। এই উপস্থিতি গত ১০ ও ১১ এপ্রিল তোলা ছবিতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

এদিকে, নিজেদের জেলেদের সুরক্ষা দিতে ফিলিপাইনও কোস্ট গার্ড ও মৎস্যজীবী সহায়তা জাহাজ পাঠিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় আকারের চীনা টহল জাহাজের কারণে প্রায়ই ফিলিপাইনের জেলেদের ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র জে টারিয়েলা জানান, ১০ ও ১১ এপ্রিল স্কারবরো শোলের প্রবেশমুখে প্রায় ৩৫২ মিটার দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধক স্থাপন করে চীন। তিনি বলেন, শোলের ভেতরে ছয়টি এবং বাইরে আরও তিনটি চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া জাহাজ অবস্থান করছিল, যা সেখানে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছিল।

তিনি বলেন, ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড অতীতে স্কারবোরোতে চীনা বাধা সরিয়ে দিলেও চীন বারবার ফিরে আসে। ফিলিপাইনের নৌবাহিনী জানায়, সাগরে তাদের টহল অব্যাহত রয়েছে।

স্কারবরো শোল, ফিলিপাইনে ‘বাহো দে মাসিনলোক’ এবং চীনে ‘হুয়াংইয়ান দ্বীপ’ নামে পরিচিত। এই এলাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাছ ধরার ক্ষেত্র। এটি ফিলিপাইনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পড়লেও চীনও এর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।

গত বছর চীন সেখানে একটি জাতীয় প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। ফিলিপাইনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একে স্কারবরো শোল ‘দখলের অজুহাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ফিলিপাইন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ১০টি চীনা কোস্ট গার্ড জাহাজ ওই এলাকায় দেখা গেছে।

দুই দেশের মধ্যে সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। যদিও ২০১২ সালে এক অচলাবস্থার পর থেকে চীন কার্যত স্কারবরো শোলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

ম্যানিলা বলেছে যে, চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়ারা শোল এবং দক্ষিণ চীন সাগরের অন্যান্য বিতর্কিত এলাকায় কিছু ট্রলার পরিচালনা করে, কিন্তু বেইজিং কখনো এটি স্বীকার করেনি। এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্কারবরো শোল এলাকায় ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া চালায়, যা ছিল তাদের ১১তম যৌথ অনুশীলন। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উভয় দেশের হাজার হাজার সেনা চলতি মাসে ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জজুড়ে বড় আকারের মহড়া শুরু করতে চলেছে, যার মধ্যে জাম্বালেসও রয়েছে। জাম্বালেস উপকূল স্কারবোরো শোল থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত।

কূটনীতিকরা বলছেন, এই মহড়া এবং বৃহত্তর উত্তেজনার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার চেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, চীন দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় এর সুযোগ নিতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সালিস আদালতের এক রায়ে দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন বিরোধে ফিলিপাইনের অবস্থান সমর্থন করা হলেও স্কারবরো শোলের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি সে রায়ের আওতার বাইরে ছিল। আদালত তখন বলে, সেখানে চীনের অবরোধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে, কারণ এটি চীন, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামসহ বেশ কয়েকটি দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার এলাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত