সৌদি-হুতি সংঘাতের পরিধি বাড়ছে

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ এএম

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বৈরিতা ক্রমশ বাড়ছে। দীর্ঘদিন দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ আরোপ ও দেশটির তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা সে উত্তেজনাকে আবার উসকে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সংঘাত আরও বৃদ্ধি করার হুমকি দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। পাশাপাশি গোষ্ঠীটি বাব আল-মান্দেব প্রণালির তীরবর্তী ভূখণ্ড দখলের পরিকল্পনা করছে বলে সতর্ক করেছেন ইয়েমেনের এক মন্ত্রী। প্রণালিটির ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়লে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সৌদি ও হুতিদের এই সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, গত ২০ জুলাই থেকে সৌদি জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করার পর এখন পর্যন্ত সৌদি তেলবাহী আটটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি হামলা হয়েছে লোহিত সাগরে এবং তিনটি আরব সাগর ও এডেন উপসাগরে। তিনি দাবি করেন, হুতিদের হুমকির কারণে ৪৮টি সৌদি তেলবাহী জাহাজকে ফিরে যেতে হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি আরব সাগর ও ভারত মহাসাগর থেকে এবং ১৪টি লোহিত সাগর থেকে ফিরে যায়। ইয়াহিয়া সারি আরও দাবি করেনÑ সৌদি আরবের ইয়ানবু, নাজরান, জিজান ও আবহা এলাকায় এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় মোট ৯টি হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি আল-রুওয়াইক, আল-আবর, আল-ওয়াদিয়াহ, মারিব ও আল-মাখা এলাকায় সৌদি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে আরও ১৪টি অভিযান চালানো হয়েছে। হুতিদের এই মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে তার জবাবও বড় ধরনের সংঘাত দিয়েই দেওয়া হবে।

এদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সতর্ক করে বলেছে, হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দখলের পরিকল্পনা করছে। হুতিদের তিনটি সামরিক সূত্র এবং ওই জলপথের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থানরত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর একজন মুখপাত্রও বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, বিদ্রোহীরা অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করছে। তেমনটা হলে অঞ্চলটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর তেহরান ও তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি এএফপিকে বলেন, হুতি মিলিশিয়া বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দখলের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি করতে কাজ করছে। এ জন্য তারা পশ্চিম উপকূলে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং লোহিত সাগরে ইয়েমেনের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, হুতিরা সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে। তাদের পরিকল্পনার বিষয়টি ‘বন্দর, নৌঘাট, বেসামরিক অবকাঠামো, জাহাজ এবং সরকারি নৌ-সক্ষমতার ওপর বারবার হামলার’ মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে।

বর্তমানে হুতিরা সরাসরি ওই প্রণালির উপকূলীয় এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে না। তবে তারা উত্তরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হোদেইদা নিয়ন্ত্রণ করে এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে বারবার হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিদ্রোহীরা ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর ওপর কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। তারা এখন বাব আল-মান্দেবের কাছাকাছি অবস্থিত ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখাকেও লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে তারা প্রণালির কাছাকাছি সামরিক স্থাপনা এবং লোহিত সাগরে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে। প্রণালির সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণকারী সরকার-সমর্থিত জাতীয় প্রতিরোধ বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সাদেক দুয়াইদ এএফপিকে বলেন, বিদ্রোহীরা ‘বাব আল-মান্দেবে নিজেদের একটি অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে’।

তিনি বলেন, মোখা ও এর বন্দরে অব্যাহত হামলার মাধ্যমে হুতি মিলিশিয়া বাব আল-মান্দেব প্রণালির তীরবর্তী এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করতে এবং এলাকাটিকে হরমুজ প্রণালির মতো পরিস্থিতিতে পরিণত করতে চাইছে। হুতিদের তিনজন সামরিক সূত্র এএফপিকে বলেছেন, গোষ্ঠীটি হোদেইদার দক্ষিণের এলাকাগুলো দখল করতে একটি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা জানিয়েছে, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের তাইজ ও হোদেইদা প্রদেশের সম্মুখসারির এলাকায় প্রায় ২ হাজার যোদ্ধাকে মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে রকেট নিক্ষেপকারী অস্ত্রও মোতায়েন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত