যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সংকটের শঙ্কা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ এএম

এক দশকেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। দেশটির মোট জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৪৭ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ ৪ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার। এর মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটিজের পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ঋণ ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সুদের ক্রমবর্ধমান খরচের বিপরীতে করছাড়ের কারণে সরকারের আয় কমতে থাকায় সামনে ভয়াবহ আর্থিক সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।

বাজেট পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীগুলো বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়ানোর আশঙ্কা করছিল। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশটির সরকারি ঋণ ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। সরকারি ঋণ বৃদ্ধির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ঘটেছে ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কা সামলাতে সরকারের নেওয়া জরুরি ঋণ কর্মসূচির কারণে। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ ঋণের জন্য দায়ী এ দুই প্রেসিডেন্টের নেওয়া আর্থিক নীতি এবং দীর্ঘদিনের কর ও ব্যয়ের মধ্যকার কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা।

নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস বলেছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ শুধু সরকারি হিসাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে অনুভূত হচ্ছে এবং কোনো না কোনোভাবে সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যত বেশি ঋণ নেওয়া হবে, ততই মূল্যস্ফীতি বাড়বে, বাজেটের অন্যান্য অগ্রাধিকার সংকুচিত হবে এবং দেশ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দুর্বল হয়ে পড়বে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মাত্র পাঁচ মাসেরও কম সময়ে ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মহামারীর প্রভাবে সরকারি ঋণ ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ঋণ বেড়েছে আরও ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বাইডেনের চার বছরের মেয়াদে মহামারী-পরবর্তী পুনরুদ্ধার, অবকাঠামো ও সবুজ জ্বালানি খাতে বিপুল ব্যয়ের কারণে ঋণ বেড়েছিল ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মহামারীর প্রভাবে সরকারি ঋণ ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ঋণ বেড়েছে আরও ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বাইডেনের চার বছরের মেয়াদে মহামারী-পরবর্তী পুনরুদ্ধার, অবকাঠামো ও সবুজ জ্বালানি খাতে বিপুল ব্যয়ের কারণে ঋণ বেড়েছিল ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার।

ঋণের বোঝা কমার কোনো লক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবারও সুদহার কমানোর জন্য তার পুরনো দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। বন্ড বাজারের অস্থিরতা নিয়ে নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘মোটেও না। আমরা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দেশ এবং এই অযৌক্তিক সুদহার সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছি। দেশ যখন শক্তিশালী থাকে, তখন সুদহার কমা উচিত’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত