সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের কাজ, অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকে। ব্রেকফাস্ট করতে গেলে আরও দেরি হয়। পরে কিছু একটা খেয়ে নেওয়া যাবে এই ভেবে না খেয়েই বেরিয়ে যান। এই পরিস্থিতির মুখোমুখি অনেকেই হন। প্রায় দিনই খালি পেটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। আবার কেউ কেউ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করতে গিয়ে কিংবা ওজন ঝরাতে গিয়ে ব্রেকফাস্ট স্কিপ করেন। কিন্তু এ ধরনের অভ্যাসে কোনো উপকার মেলে না। বরং নষ্ট হয় আপনার বিপাক ক্রিয়া। এর জেরে ভুগতে পারেন ক্রনিক গ্যাস-অম্বলে। অনেক সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সত্ত্বেও গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দেখা দেয়। প্রায়ই ভুগতে হয় পেটফাঁপা, বুক জ্বালা, পেট ব্যথায়। এগুলো খাওয়া-দাওয়ার ভুলে নয়, ব্রেকফাস্ট না করার জেরেই দেখা দেয়।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগেই পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড তৈরি হতে থাকে। যখন ঘুম থেকে ওঠার কোনো সলিড ফুড খান না, তখন খালি পেটেই ওই অ্যাসিড জমতে থাকে। যার জেরে পেটে জ্বালা ভাব অনুভব হয়। তার পরেই বুক জ্বালা, চোঁয়া ঢেকুর দেওয়া, বমি ভাব এবং জিভে টক ভাব ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারাই এঊজউ-এ ভোগেন, তাদের অধিকাংশই ব্রেকফাস্ট স্কিপ করেন।
ঘুমানোর সময়েও পাকস্থলীতে ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণে অ্যাসিড তৈরি হয়। ব্রেকফাস্টের অন্যতম কাজই হলো, রাতভর যে অ্যাসিড তৈরি হবে, তা দূর করা। তাই ব্রেকফাস্ট না করলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হবেই। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই ভারী খাবার খাওয়া যায় না। তবে ঘুম ভাঙার এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যেই ব্রেকফাস্ট সারতে হবে। তবেই হজম প্রক্রিয়া সচল থাকবে। ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি খান। তারপর ৬০-৯০ মিনিটের মধ্যে ব্রেকফাস্ট খেয়ে নিন।
ব্রেকফাস্টে কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন, তার ওপর গ্যাস-অম্বলের সমস্যা নির্ভর করে। অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমাতে ওটস, আটার রুটির মতো গোটা শস্য জাতীয় খাবার খেতে পারেন। খালি পেটে তেল-মসলাদার, সাইট্রাস জুস বা কার্বোনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। অনেকেই ব্রেকফাস্টে ভারী খাবার খাওয়ার বদলে চা-কফি খেয়ে নেন। পেট ভরাতে দুটো বিস্কুট বা কেক খান। এটা মোটেও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। চা-কফি ব্রেকফাস্টের বিকল্প হতে পারে না। তাই ভারী খাবার খাওয়ার পরেই চা-কফি খাওয়া উচিত।
