মাদরাসা শিক্ষককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও ইবতেদায়ি শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের হাতে একই মাদরাসার মাধ্যমিক শাখার বাংলার শিক্ষক খায়রুল ইসলামকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় শনিবার রাতে থানায় জাহাঙ্গীর হোসেনকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তথ্যটি আজ রবিবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

মামলায় ভুক্তভোগী খায়রুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি মাদরাসার বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। আর জাহাঙ্গীর হোসেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও একই সঙ্গে তিনি ইবতেদায়ী শিক্ষক।

মামলায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৫ এপ্রিল তিনি সকাল পৌনে ১০টায় মাদরাসায় হাজির হলে জাহাঙ্গীর হোসেন তাকে দায়িত্ব অবহেলার মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে শিক্ষক রুমে আটক করে অন্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতে এলোপাতাড়িভাবে চড়-থাপ্পর মারেন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষকরা আমাকে তার থেকে রক্ষা করেন। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর হোসেন অন্যান্য শিক্ষকদের ক্লাসে পাঠিয়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ আলম ও অপর শিক্ষক শাহ আলম মজুমদারকে অফিসে থাকতে বলেন। পরবর্তীতে আমি জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে জানতে চাই কোনও অপরাধে আমাকে মারধর করা হলো। এ সময়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অফিস কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে পুনরায় মারধর শুরু করেন। ২ শিক্ষকের সহযোগিতায় আমি অফিস থেকে বের হলে তিনি আমাকে পেছন থেকে ধাওয়া করে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অপর শিক্ষকদের সামনের মারধর শুরু গায়ের জামা ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময়ে কে বা কারা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

এদিকে শিক্ষক খায়রুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করার ভিডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। চৌদ্দগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে শিক্ষকরা জাহাঙ্গীর হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে। ঘটনার পরপর চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিও করেছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, লাঞ্ছিত হওয়া শিক্ষক খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার রাতে জাহাঙ্গীর হোসেনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত