বাংলাদেশের আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা ক্যাপিটাল ডেফিসিট বা মূলধন ঘাটতি। এই ঘাটতি পূরণে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের মুদ্রার মান ৪০ শতাংশের বেশি অবমূল্যায়িত (ডেপ্রিসিয়েটেড) হয়েছে। এর সঙ্গে ইউটিলিটিসহ অন্যান্য ব্যয় বাড়ার কারণে বেসরকারি খাতে প্রায় ৫০ শতাংশ মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলো থেকে লুটপাট করে টাকা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোতেও চরম ক্যাপিটাল সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
এই মূলধন ঘাটতি মেটানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই টাকাগুলো আমাদের রিপ্লেশ বা প্রতিস্থাপন করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে অনেক টাকা রিপ্লেশমেন্টের জন্য দেওয়া হয়েছে এবং আগামী বাজেটেও এ খাতে বরাদ্দ রাখা হবে। আমরা আইএমএফের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে রিক্যাপিটালাইজ (পুনঃমূলধনীকরণ) করার চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আর্থিক খাতে আকৃষ্ট করার মাধ্যমে ক্যাপিটাল ডেফিসিট মেকআপ করার চেষ্টা চলছে, যাতে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারগুলো ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ নেওয়ায় বেসরকারি খাত ‘ক্রাউডেড আউট’ হয়ে গেছে, অর্থাৎ ব্যক্তি খাত ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগামীর অর্থনীতিতে ব্যাংকগুলোকে রিভাইটালাইজ (পুনরুজ্জীবিত) ও রিব্যাম্প করতে হবে। ক্যাপিটাল ডেফিসিট পূরণে সরকারের পাশাপাশি মাল্টিলেটারাল বডি ও প্রাইভেট সেক্টরকেও এগিয়ে আসতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, ঘাটতির পরিমাণ বিশাল এবং এটি খুব সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে কিছুটা সময় লাগলেও আগামী দিনগুলোতে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি