নতুন অর্থবছর ২০২৬-২০২৭ সালের জাতীয় বাজেট তৈরির কাজে তোড়জোড় চলছে। ইতিমধ্যে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সভায় এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়েছে। যার ভিত্তিতে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানকে বাজেট প্রাক্কলন এবং পরবর্তী দুই অর্থবছর (২০২৭-২৮ ও ২০২৮-২৯) এর প্রক্ষেপণ প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ বিভাগ।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইবাস প্লাস প্লাস (আইবাস++) সিস্টেমে বাজেট প্রাক্কলন এন্ট্রি সম্পন্ন করতে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে হার্ড কপি জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজেট দাখিল নিশ্চিত করতে পরিপত্রে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। শুধু বাজেট প্রণয়ন নয়, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা এবং কোয়ার্টারভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণের ওপর পরিপত্রে জোর দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানো এবং ঋণনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবারের বাজেটের কৌশল হিসেবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং ২০২৬ সালের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, মানবসম্পদ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, নারী ও শিশু উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
জানা গেছে, অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সভায় এরইমধ্যে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতে সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে অনুসরণ করতে হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ত্রিপক্ষীয় সভায় নির্ধারিত ব্যয়সীমাই সর্বোচ্চ এবং এর বাইরে অতিরিক্ত বরাদ্দের সুযোগ নেই। বরাদ্দ সংকুলান সম্ভব না হলে কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাদ দিয়ে উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পে অর্থায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে অনুমোদন ও যাচাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলো প্রথমে নিজ নিজ বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন নিয়ে প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের বাজেট ওয়ার্কিং গ্রুপ তা যাচাই করে পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মতামতের জন্য পাঠাবে। সবশেষে বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
বাজেটের রাজস্ব ও ব্যয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়ক হয় সেরূপ সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ প্রদান করতে হবে। তবে সাধারণভাবে বাজেটে থোক বরাদ্দ প্রস্তাব করা যাবে না।
সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে এমন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাসগুলোর বরাদ্দ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থার চলতি অর্থবছরের নিজস্ব আয় ও আয়ের উৎস পর্যালোচনা করতে হবে। ত্রিপক্ষীয় সভায় সম্মত প্রাক্কলিত ও প্রক্ষেপিত আয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে দেখাতে হবে। নিজস্ব আয়ের অর্থ বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার জন্য ব্যয়সীমা বা সরকারি সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করে তার ভিত্তিতেই বিস্তারিত অর্থনৈতিক কোড অনুযায়ী বাজেট প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ প্রণয়ন করতে হবে।
সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়ের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে ব্যয়সীমা নির্ধারণ করতে হবে এবং সরকারি সহায়তার পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে রেখে এর ভিত্তিতেই বিস্তারিতভাবে বাজেট প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ করতে হবে।