টেন্ডার নিয়ে ঘাপলায় হামলা উপ-পরিচালকের ওপর

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৯ এএম

টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে ২০ হাজার টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করে জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে এলোপাতাড়ি  কোপানো হয়। ওই ঘটনায় জড়িত পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর দুই প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে ভয় দেখাতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

গত সোমবার অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে বনানী এলাকায় জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় গত সোমবার ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব পাঁচজনকে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 গ্রেপ্তাররা হলেন ক্যানসার হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মূলহোতা মালয়েশিয়া অবস্থানরত সন্ত্রাসী মো. রুবেলের সহযোগী শরিফুল আলম ওরফে করিম, আমিনুল ইসলাম ওরফে কালু, সালাউদ্দিন, আরিফুজ্জামান ও সাজ্জাদ ওরফে বদি এবং ইউসুফ আলী ও নেছার আহমেদ।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, রাজধানীতে টেন্ডার সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী ব্যবহারের তথ্য পায় র‌্যাব। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আসামি করিমের মাধ্যমে হামলাকারী সালাউদ্দিন ও আরিফুজ্জামানকে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া করেন রুবেল। প্রথমে ডা. আহমদকে ব্লেড দিয়ে রক্তাক্ত করে সালাউদ্দিন। পরে চাকু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে আরিফুজ্জামান।

আর ফোনে উপ-পরিচালককে টেন্ডারে হাসপাতালের কাজ দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করত সাজ্জাদ।

র‌্যাব ১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান বলেন, হাসপাতালের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। মালয়েশিয়া প্রবাসী রুবেল ইএম ট্রেডার্সের স্বস্তাধিকারী। সবসময় ইএম ট্রেডার্স ক্যানসার হাসপাতালের এক্সরে এবং সিটিস্ক্যান-এর ফিল্ম সাপ্লাই দিয়ে আসছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এক্সরে এবং সিটিস্ক্যান ফিল্ম সাপ্লাইয়ের কাজটি পেয়েছে মুনায়েম গ্রুপ। রুবেল গ্রুপের ইএম ট্রেডার্স কাজটি না পাওয়ায় রুবেল গ্রুপ ডা. আহমদ হোসেনের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং তার ওপর হামলা করে।

তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্বের জেরে তারা ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটায়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় সরাসরি কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। টেন্ডার ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি গ্রুপ ‘রুবেল গ্রুপ ও মোনায়েম গ্রুপ’। এই প্রতিযোগিতার জেরেই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর সঙ্গে হাসপাতালে কথা বলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় র‌্যাব। সেই সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী রুবেল এই হামলার নির্দেশ দেন এবং তার হয়ে দেশে কাজটি বাস্তবায়ন করেন গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম করিম। মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা চালানো হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম করিমের বিরুদ্ধে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনের দুটি মামলা রয়েছে। আমিনুল ইসলাম কালুর বিরুদ্ধে বনানী থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা এবং সাজ্জাদ বদির বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় মাদক মামলা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত