বিলুপ্ত ‘কমিটি’ই চালাচ্ছে চট্টগ্রাম নগর যুবদল

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০০ এএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত জাতীয়তাবাদী যুবদল। অথচ গত দেড় বছর ধরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রামে নেই এ সংগঠনের কোনো কমিটি। বিলুপ্ত কমিটির নেতারাই চালিয়ে যাচ্ছেন সাংগঠনিক কার্যক্রম।

নেতাকর্মীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কিছু কিছু কর্মসূচি পালিত হলেও ওয়ার্ড থেকে মহানগর পর্যন্ত কোথাও কমিটি না থাকায় কার্যত চট্টগ্রাম নগরীতে যুবদলের কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছে না। একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটকে দীর্ঘদিন ধরে কমিটিবিহীন রেখে দেওয়াকে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতাদের উদাসীনতা বলেও মনে করছেন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। এ নিয়ে সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। 

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর পুরনো চান্দগাঁও এলাকায় একটি টার্ফের আধিপত্য নিয়ে নগর যুবদলের দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার জের ধরে ওই দিনই চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্র। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন এবং কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আমিনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকে কমিটিবিহীন অবস্থায় চলছে মহানগর যুবদলের কার্যক্রম।

কেন্দ্রীয় যুবদলের একাধিক কর্মসূচিসহ কেন্দ্রঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরীতে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বেই এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। আগামীতে কমিটিতে পদাকাক্সক্ষীরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নিলেও কমিটি গঠনে কেন্দ্রের উদাসীনতায় অনেকে হতাশ।

বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, ‘২০১৮ সালের ১ জুন আমাকে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। হামলা-মামলা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে পুরোটা সময় চট্টগ্রাম নগরীতে যুবদল সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক হামলা-মামলার শিকার হন নেতাকর্মীরা। আমি নিজেও প্রায় ১০০ মামলার আসামি হই। কেন্দ্র থেকে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পরও কেন্দ্রের নির্দেশে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি। তিনি বলেন, নিয়মিত কমিটি না থাকায় মাঠের নেতাকর্মীদের হতাশা স্বাভাবিক। আশা করি, কেন্দ্র বিষয়টি উপলব্ধি করে দ্রুত একটি শক্তিশালী কমিটি উপহার দেবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতিতে অঙ্গ সংগঠন হিসেবে যুবদলের অবদান সবচেয়ে বেশি। সেই সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগরের মতো একটি ইউনিট যদি দীর্ঘদিন কমিটিবিহীন রাখা হয়, তবে সেটা সংগঠনের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি নেতাকর্মীদের জন্যও হতাশার বিষয়। বলতে গেলে চট্টগ্রাম নগর পর্যায় থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে গত দেড় বছর ধরে যুবদলের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি বলেন, ‘দুঃসময়ে দলের জন্য ত্যাগ ও অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিচ্ছন্ন ইমেজধারী, শিক্ষিত ও  ত্যাগী কর্মীদের মধ্য থেকে পুরনো ও নতুনের সমন্বয়ে দ্রুত মহানগর কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।’

সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতেই চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্তও জমা নেওয়া হয়। পদাকাক্সক্ষীদের সাক্ষাৎকারও গ্রহণ করেন কেন্দ্রের দায়িত্বশীলরা। কিন্তু কেন্দ্রীয় সভাপতির দেশে অনুপস্থিতির কারণে কমিটি ঘোষণার বিষয়টি পিছিয়ে গেছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুবদলের ঢাকা মহানগরের পরই চট্টগ্রাম মহানগরের স্থান। যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে চট্টগ্রাম মহানগরের নেতাকর্মীরা সবসময় ভালো ভূমিকা রেখেছে। জাতীয় নির্বাচনসহ নানা কারণে কমিটি ঘোষণা কিছুটা বিলম্ব হলেও ইতিমধ্যে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। আশা করছি, এ ব্যাপারে শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত