নবীনগরে ‘মব’ সৃষ্টি করে হামলার অভিযোগ, স্ত্রীর পাল্টা মামলা

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অবরুদ্ধ চেয়ারম্যান ও তার দুই ভাইকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে প্রতিপক্ষের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বাজারে একটি খালি জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করতে যান ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আওয়াল রবির ভাই শফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন। এ নিয়ে একই ইউনিয়নের যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোহাম্মদ কাউছার আলমের সঙ্গে পূর্ব বিরোধ ছিল।

দোকান নির্মাণের খবর পেয়ে কাউছার আলমের পক্ষের নেতা ও বাজার কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শামীম লোকজন নিয়ে সেখানে বাধা দিতে যান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে শামীম ও তার অনুসারীরা ‘মব’ সৃষ্টি করে চেয়ারম্যান রবিউল আওয়াল রবি এবং তার দুই ভাই রুবেল মিয়া ও পলাশ মিয়াকে মারধর করে একটি স্থানে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৌশলে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা চেয়ারম্যান ও তার দুই ভাইকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

থানা হেফাজতে থাকা চেয়ারম্যান রবিউল আওয়াল রবি বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি। ইজারা নেওয়া জায়গায় দোকান নির্মাণ করছিলাম। প্রতিপক্ষ সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে ‘মব’ তৈরি করে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুবদল নেতা কাউছার আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় বাজার কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শামীম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় চেয়ারম্যান রবিউল আওয়াল রবিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এদিকে চেয়ারম্যানকে ‘মব’ সৃষ্টি করে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে নবীনগর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে— (১) শামীম মিয়া, সভাপতি, জিনোদপুর ইউনিয়ন (২) যুবদল মজনু মিয়া, সভাপতি, জিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপি (৩) হাজী কাউছার আহম্মেদ, সদস্যসচিব, নবীনগর উপজেলা যুবদল।

এছাড়া আরও ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২০-৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত