ব্রাজিলিয়ান বিস্ময় বালক এস্তেভাওয়ের গুরুতর চোট ২০২৬ বিশ্বকাপে নেইমার জুনিয়রের ফেরার পথ প্রশস্ত করে দিচ্ছে বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই খবরের পর আন্তর্জাতিক বেটিং সাইটগুলোতে নেইমারের বিশ্বকাপ খেলার ওপর বাজি ধরার হার আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিখ্যাত বেটিং সাইট 'পলিমার্কেট'-এ একটি প্রশ্ন ছিল— "নেইমার কি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে খেলবেন?" গত ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যেখানে নেইমারের খেলার পক্ষে বাজির হার ছিল ৩৪%, বুধবার এস্তেভাওয়ের চোটের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তা একলাফে ৫০% এ গিয়ে ঠেকেছে। গত ১৭ মার্চ বাজির উইন্ডো খোলার পর নেইমারকে নিয়ে এমন ইতিবাচক সাড়া আর দেখা যায়নি।
ব্রাজিল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে এস্তেভাও ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। উরুর গুরুতর চোটের কারণে তার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এখন বড় হুমকির মুখে। যদি এস্তেভাও শেষ পর্যন্ত ছিটকে যান, তবে আক্রমণভাগে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হবে। আর সেই জায়গা পূরণে অভিজ্ঞ নেইমারের নামই সবার আগে আসছে, যদিও সবশেষ স্কোয়াডে তাকে রাখা হয়নি।
নেইমারের শট লাগল পোস্টে
নেইমারকে ফিরে পেয়েও ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে জয়ের দেখা পাচ্ছে না সান্তোস। বুধবার রাতে কোপা দো ব্রাজিলের পঞ্চম রাউন্ডের প্রথম লেগের ম্যাচে কুরিতিবার মুখোমুখি হয়েছিল সান্তোস। নেইমার ম্যাজিক দেখানোর চেষ্টা করলেও ভাগ্য সহায় হয়নি তার; গোলপোস্টে বল লেগে ফিরে আসায় ০-০ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সান্তোসকে।
এই নিয়ে ঘরের মাঠে টানা তিন ম্যাচে জয়হীন থাকল সান্তোস। ম্যাচজুড়েই আক্রমণের প্রাধান্য ছিল আলভিনেগ্রোদের। বিশেষ করে ১০ নম্বর জার্সিধারী নেইমার কয়েকবার গোল করার খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন। প্রথমার্ধে তার একটি শট দারুণভাবে রুখে দেন কুরিতিবা গোলরক্ষক পেদ্রো র্যাঞ্জেল।
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয় মোড় নিতে পারতো যখন নেইমার একটি ফ্রি-কিক পান। তার নেওয়া সেই নিখুঁত শটটি গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে ঘরের মাঠে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার আক্ষেপ থেকেই যায় তার।
ম্যাচ শেষে হতাশ সমর্থকরা খেলোয়াড়দের দুয়োধ্বনি দিয়ে মাঠ ছাড়া করেন। এখন আগামী ১৩ মে কুরিতিবার মাঠে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। সেখানে ড্র হলে ম্যাচের ফয়সালা হবে পেনাল্টি শুটআউটে।
দুর্নীতির অভিযোগ থেকে চূড়ান্ত খালাস নেইমার
প্রায় এক দশকের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে বার্সেলোনায় দলবদল সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ থেকে চূড়ান্ত মুক্তি পেলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। বুধবার স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট নেইমারসহ বার্সেলোনার সাবেক দুই সভাপতি স্যান্ড্রো রসেল ও জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউয়ের খালাস পাওয়ার রায় বহাল রেখেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালে, যখন ব্রাজিলের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান 'ডিআইএস' আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নেইমার যখন সান্তোসে ছিলেন, তখন তার স্পোর্টিং রাইটসের ৪০ শতাংশের মালিক ছিল এই প্রতিষ্ঠানটি। তাদের অভিযোগ ছিল, নেইমারের বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার প্রকৃত মূল্য গোপন করা হয়েছে এবং ২০১১ সালে করা একটি গোপন চুক্তির বিষয়ে তাদের জানানো হয়নি। এতে তারা আর্থিকভাবে বড় অঙ্কের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে দাবি করে।
২০২২ সালে একটি নিম্ন আদালত নেইমার, তার বাবা-মা এবং বার্সেলোনার সাবেক কর্মকর্তাদের খালাস দিয়েছিলেন। ডিআইএস সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে সুপ্রিম কোর্ট তা নাকচ করে দেন।
আদালত তাদের বিবৃতিতে জানায়, "তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। এখানে ব্যবসায়িক দুর্নীতি বা জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নেইমারকে দলে ভেড়ানো ছিল বার্সেলোনার একটি ক্রীড়া কৌশলগত সিদ্ধান্ত। অন্য ক্লাবগুলো তাকে নেওয়ার চেষ্টা করছিল বলেই বার্সেলোনা আগেভাগে তার সাথে যোগাযোগ করেছিল।"
বার্সেলোনা দাবি করেছিল যে, নেইমারের এই দলবদলে খরচ হয়েছিল ৫৭.১ মিলিয়ন ইউরো। যার মধ্যে ৪০ মিলিয়ন ইউরো দেওয়া হয়েছিল নেইমারের বাবা-মায়ের কোম্পানি 'এন অ্যান্ড এন'-কে এবং ১৭.১ মিলিয়ন ইউরো পেয়েছিল সান্তোস। সান্তোসের পাওয়া সেই অর্থ থেকে ডিআইএস-কে দেওয়া হয়েছিল ৬.৮ মিলিয়ন ইউরো। তবে ডিআইএস-এর দাবি ছিল, তাদের পাওনা থেকে আরও ৩৫ মিলিয়ন ইউরো কম দেওয়া হয়েছে।
গোল করে চোটে ইয়ামাল, স্পেনের জন্য কতোটা দুশ্চিন্তার?