নাজিরহাট হাইওয়ে থানায় ‘টোকেন বাণিজ্য’ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেট : ০১ মে ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট হাইওয়ে থানার কতিপয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সড়কে চেকপোস্ট কেন্দ্রিক অনিয়ম, টোকেন বাণিজ্য, মাসোহারা আদায় এবং চালকদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক, ভুক্তভোগী চালক ও সচেতন মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কে আইন প্রয়োগের নামে কিছু অসাধু সদস্য দীর্ঘদিন ধরে একটি অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন, যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, নাজিরহাটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে স্থাপিত চেকপোস্টে যানবাহনের কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে চালকদের থামিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার সুযোগ নিয়ে মামলা, গাড়ি আটক বা আইনি ব্যবস্থার ভয় দেখানো হয়। পরে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ‘সমাধান’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক চালক।

ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু তাৎক্ষণিক অর্থ আদায় নয়—সিএনজি অটোরিকশা, ড্রাম ট্রাক, ট্রলি, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে মাসিক নির্ধারিত হারে অর্থ নিয়ে বিশেষ ‘টোকেন’ সরবরাহ করা হয়। এই টোকেন থাকলে অনেক ক্ষেত্রে চেকপোস্টে বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদ বা হয়রানি এড়ানো যায়, আর টোকেন না থাকলে মামলা বা আটকের ঝুঁকি বাড়ে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক জানান, প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান ছাড়া টোকেন পাওয়া যায় না। মাসোহারা দিতে ব্যর্থ হলে সড়কে চলাচলের সময় বারবার গাড়ি থামানো, কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি, এমনকি অযথা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, এ প্রক্রিয়ায় অশোভন আচরণ ও মানসিক চাপও সহ্য করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে হাইওয়ে পুলিশের কার্যকর উপস্থিতির চেয়ে চেকপোস্টভিত্তিক অর্থ আদায়ের অভিযোগই বেশি শোনা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

সম্প্রতি এক প্রবাসীর সঙ্গে অসদাচরণ, গাড়ি আটক ও আর্থিক হয়রানির অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগটি পৃথকভাবে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাব উদ্দীন ফোনে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত আইন প্রয়োগ ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়।

হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, তার দপ্তরে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পৌঁছায়নি। তবে লিখিত বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন মহল মনে করছে, সড়কে আইন প্রয়োগ অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেই আইন প্রয়োগ যদি কোনোভাবে অনিয়ম, দুর্নীতি বা ব্যক্তিস্বার্থের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে তা জনআস্থার জন্য ক্ষতিকর। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয়দের মতে, নাজিরহাট হাইওয়ে থানাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হলে শুধু অনিয়ম বন্ধই হবে না, বরং সাধারণ মানুষের আস্থাও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত