বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন স্বাধীনতার ৫০ বছর পর পুরোনো বিষয় সামনে এনে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করলে দেশ এগোতে পারে না। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্যই তরুণ, যারা স্বাধীনতার পর জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁদের স্বাধীনতাবিরোধী বা রাজাকার আখ্যা দিলে জনগণ তা গ্রহণ করে না, বরং উপহাস করে।
শুক্রবার (১ মে) কুমিল্লা নগরে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের মানুষকে বিভক্ত করার রাজনীতিতে একটি অপশক্তি সক্রিয় রয়েছে। তাদের তৎপরতার ফলেই জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিল-২০২৬ বর্তমান অবস্থায় রয়েছে। সমাবেশে তিনি আরও বলেন, কমিউনিজম তত্ত্বে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলা হলেও বাস্তবে তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একইভাবে পশ্চিমা গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারা প্রাধান্য পেলে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, এত সাংবিধানিক পরিবর্তনের পরও একটি মহল পুরোনো বিতর্ক জিইয়ে রাখতে চায়। এটি দেশপ্রেম নয়; বরং জাতিকে বিভক্ত করার বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ। দেশের স্বার্থে এসব বিতর্ক দ্রুত নিষ্পত্তি করে নতুন প্রজন্মের জন্য ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা এটিএম মাসুম, মহানগরের প্রধান উপদেষ্টা কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত এবং কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মু. মজিবুর রহমান ভুঁইয়া।
মহানগর শাখার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি মু. মাইন উদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান, মু. শফিউল্লাহ, নিজাম উদ্দিন, কলিম উল্লাহ, মহিউদ্দিন রিপনসহ অন্যরা।
