নরসিংদীতে আল আমিন (৩০) নামে এক মিশুক চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করেছে তারই আপন ছোট ভাই হাসান (২৬)। শনিবার (২ মে) সকালে শহরের সাটিরপাড়ার একটি পাম্পের সামনে এঘটনা ঘটে। এঘটনায় ঘাতক ছোট ভাই হাসানসহ দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।
হাসান ও আল আমিন উভয়ই নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের আতশআলি বাজারের বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে। তারা শহরের চৌয়ালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিহতের স্বজনরা জানায়, হাসান ও আল আমিনরা ৫ ভাই ও ২ বোন। তারা নরসিংদী শহরে মিশুক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। দীর্ঘদিন যাবত চৌয়ালার বাসিন্দা হাবিবের ছেলে নাইম প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল তাদের বোন দুই সন্তানের জননী তাসলিমা বেগমকে। কিন্তু নাইমের প্রেমের প্রস্তাবে তাসলিমা রাজি হচ্ছিল না। এই নিয়ে দীর্ঘদিন নাইমের সাথে বিরোধ ছিল ভাইদের। এই বিরোধে নাইমের ভয়ে তারা গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিলো।
গত ৩ দিন আগে বড় ভাই আল-আমিন বসে নাইমের সাথে এ ঘটনা মিমাংসা করে চৌয়ালার একটি ভাড়া বাসায় উঠে। কিন্তু তার ছোট ভাই হাসান এটা মেনে নিতে পারে নি। এটা নিয়ে রাতে হুমকি দেন হাসান। আর সকালে আল আমিন বাজার করতে বের হলে সাটিরপাড়া এলাকায় আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে ছোট ভাই হাসান তাকে কেঁচি দিয়ে পেটে একাধিক আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ছোট দেবরের সঙ্গে নাইমের অনেক দিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। পরে আমরা সবাই মিলে বিষয়টি মীমাংসা করি। কিন্তু নাইম আমার ননদ তাসলিমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিয়ে না করলে আমার দেবরকে হত্যা করার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর আমাদের নরসিংদী থেকে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
তিন দিন আগে মীমাংসা করে আবার আমরা নরসিংদীতে আসি। কিন্তু আমার দেবর আসতে পারেনি। এই ক্ষোভ থেকেই আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। এসময় তিনি তার স্বামী হত্যার বিচার চান।
নিহতের বোন তাসলিমা বেগম বলেন, নাইম আমাকে প্রতিনিয়ত ফোন দিয়ে বিরক্ত করত। আমি কথা না বললে আমার ভাইদের মেরে ফেলার হুমকি দিত। কিছুদিন আগে লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এরপর ভয়ে আমরা গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। নরসিংদীতে না আসলে কাজকর্ম করা যায় না, তাই ফিরে আসতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, সকালে আল আমিন নামে একজনকে আনা হলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই আঘাতটি গভীর হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান , হত্যাকান্ডের ঘটনায় ঘাতক ছোট ভাই হাসান ও নাইমকে আটক করা হয়েছে । মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। নাইমের নামে বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে।
