বন্যার করাল গ্রাস ও কৃত্রিম জলবদ্ধতা থেকে চৌদ্দগ্রামকে রক্ষার লক্ষ্যে অবৈধ দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধার করে নতুনভাবে খাল খননের দাবি জানিয়েছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নাগরিক কল্যাণ সংস্থা। শনিবার (২ মে) সকালে চৌদ্দগ্রাম বাজার মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম নাগরিক কল্যাণ সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা মো. আমিনুল ইসলাম বাদশা। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, চৌদ্দগ্রাম নাগরিক কল্যাণ সংস্থার সদস্য মো. ফারুক হোসাইন শামীম, কাজী মো. জাকির হোসেন, মাস্টার মো. আব্দুল কুদ্দুস, মো. মিজানুর রহমান টিটু, মো. সাইফুল ইসলাম সুমন প্রমুখ। এ সময় একাত্বতা পোষণ করে দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধার ও নতুনভাবে খননের বিষয়ে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন নাগরিক কল্যাণ সংস্থার সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. খোরশেদ আলম।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে চৌদ্দগ্রামকে বন্যার করাল গ্রাস এবং জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে অবৈধভাবে দখলকৃত উপজেলার প্রতিটি খাল পুনরুদ্ধার করে অবিলম্বে মরা খালগুলো খননের জোর দাবি জানানো হয় ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তরা বলেন, ভৌগলিক অবস্থান ও রাজনৈতিক দিক থেকে চৌদ্দগ্রাম দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় রয়েছে দেশের লাইফ লাইন খ্যাত ৪৪ কিলোমিটার মহাসড়ক। ভৌগলিক কারণে প্রাচীন কাল থেকে অত্র উপজেলাটি প্রাকৃতিক দুর্যোগমুক্ত একটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে বন্যায় সারাদেশেরে বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হলেও চৌদ্দগ্রামে ২৪ ঘন্টার বেশি সময় বন্যার পানির স্থায়ীত্ব থাকার কোনো নজির নেই। এভাবে দুর্যোগমুক্ত থাকার মূল কারণটি ছিল, প্রাকৃতিকভাবেই অবাধ ও পর্যাপ্ত পানি নির্গমন সুব্যবস্থা। সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত বিস্ময় এবং পরিতাপের সাথে আমরা লক্ষ্য করছি যে, আমাদের এ নিরাপদ অঞ্চলটি পর্যায়ক্রমে বন্যা সহ অতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এলাকা হিসেবে পরিনত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় এ অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় প্রতিটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেসময় প্রায় প্রতিটি এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিস-স্থাপনা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ডুবে যাওয়াসহ গবাদিপশুর জীবননাশ, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ফসলাধির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। যা স্মরণকালের মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহিৃত হয়েছে। মূলতঃ এ দুর্যোগ প্রাকৃতিক নয়। বরং এটি মানবসৃষ্ট বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। এর মূল কারণ ছিল, স্বাভাবিক পানি নির্গমনের প্রধান উপায় নদী, নালা, খাল-বিল বেদখল হয়ে যাওয়া, বেদখলকৃত স্থানে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠা। কোথাও কোথাও সংস্কারের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া। ফলে বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। যার ফলশ্রুতিতে ভবিষ্যতেও এ ধরণের দুর্যোগের মোকাবেলা করতে হতে পারে চৌদ্দগ্রামবাসীকে। বর্তমান সরকার জাতীয়ভাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
এ প্রেক্ষিতে এ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বন্যা বা অতিবৃষ্টির পানি নির্গমনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে চৌদ্দগ্রামবাসীকে অনাগত প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানানো হয়।
