গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে কলাবাগানে পচনশীল কীটনাশক দিয়ে কৃষকের চার লাখ টাকার ক্ষতি করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলার মুকসুদপুর পৌরসভার কমলাপুর গ্রামের
কৃষক হুমায়ুন মোল্লার কলাবাগানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক।
কৃষক হুমায়ুন মোল্লা বলেন, ‘চার দিন আগে আমার কলা বাগানে আসি। এ সময় দেখি একই গ্রামের মেহেদি ও রবি নামের দুটি ছেলে কলাবাগান থেকে বের হচ্ছে। তাদের সঙ্গে আমার বাগবিত-া হয়। একপর্যায়ে তারা আমার ক্ষতি করার হুমকি দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালে কলা বাগানে এসে দেখি আমার বাগানের ৭০০ কলাগাছে পচনশীল কিটনাশক স্প্রে করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। এতে করে সব গাছের কলা পঁচে গেছে।’
কৃষক হুমায়ুন মোল্লা আরও জানান, এ ঘটনায় তার প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কলাগাছগুলোতে ফলন আসার পর দুর্বৃত্তরা কীটনাশক প্রয়োগ করায় পুরো বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাগানটি পরিচর্যায় এ পর্যন্ত তার যে শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেটিও পুরোপুরি বিফলে গেল।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে হুমায়ুন মোল্লার কলাবাগান পরিদর্শন করেছি। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্তভোগী কৃষক হুমায়ুন মোল্লাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমাকে কলাবাগানের বিষয়টি জানানোর পরে ঘটনাস্থলে আসি। এই বাগানের সাত শতাধিক কলাগাছে পচনশীল কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। সব গাছ মরে গেছে। এতে করে কৃষক হুমায়ুন মোল্লার অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারিভাবে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে’
মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষক হুমায়ুন মোল্লা কলাবাগানের গাছ নষ্ট করার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকের ক্ষতির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।