একজনকে খুঁজতে গিয়ে আরও ৩ জনকে উদ্ধার

আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ০৮:০৪ এএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে অপহরণ। মাছ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করতে গিয়ে একই চক্রের হাতে বন্দি আরও তিন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চক্রের মূলহোতাসহ জড়িত সন্দেহে দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত রবিবার নবীনগর হাউজিং বেড়িবাঁধ ও আশপাশ এলাকায় পৃথক অভিযানে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমান রিপন ও তার সহযোগী আল ওয়াজেদ ফয়সাল। ওই সময় তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ভুক্তভোগী সোহেল, সেলিম, সাইফুল ও আলী আহমেদ।

গতকাল সোমবার মোহাম্মদপুর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা এসব তথ্য জানান।

এডিসি জুয়েল রানা বলেন, রবিবার সকালে মোহাম্মদপুর থেকে প্রথমে দুজনকে অপহরণ করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে আরও দুজনকে তুলে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতভর অভিযান চালিয়ে বাড্ডা ও গাজীপুর এলাকা থেকে চার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমান রিপন ও তার সহযোগী আল ওয়াজেদ ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভুক্তভোগী আলী আহমেদের ছেলে আলাউদ্দীন ফরিদ জানান, রবিবার রাত ১১টার দিকে ডিবি পরিচয়ে ফোন করে তার বাবাকে বাসা থেকে বের হতে বলা হয়। পরে একটি হায়েস গাড়িতে তুলে নিয়ে বসিলা এলাকায় নিয়ে মারধর করা হয়। এরপর তার বাবার মোবাইল থেকে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে ২০ হাজার টাকা পাঠানো হলেও অপহরণকারীরা আরও টাকা দাবি করতে থাকে। পরে রাত ২টার দিকে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

উদ্ধার হওয়া অন্য ভুক্তভোগীর ভাই শামীম জানান, তার ভাই সেলিমকে ভোরে বেড়িবাঁধ এলাকা দিয়ে মাছ কিনতে গেলে ডিবি পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী। তাকে মারধর করে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবার ২০ হাজার টাকা পাঠালেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরে থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

আরেক ভুক্তভোগী সোহেলকে একই স্থান থেকে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ করা হয়। তার স্বজনরা জানান, সকালে মাছ কিনতে যাওয়ার পথে তাকে তুলে নেওয়া হয় এবং তার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবার বিকাশে ২০ হাজার টাকা পাঠানোর পরও তাকে আর মুক্তি দেওয়া হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত