ভারতে শাসক দল বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে বেছে নিয়েছে। বিজেপি থেকে নির্বাচিত সদস্যরা গতকাল শুক্রবার কলকাতায় এক সভায় তাকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নেতা হিসেবে মনোনয়নের জন্য মত দিলে তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ পরিষ্কার হয়ে যায়।
মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও সহপর্যবেক্ষক হিসেবে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বিজেপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ প্রথম বিধানসভায় বিজেপির দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর নাম প্রস্তাব করেন। এই মনোনয়নের বিপক্ষে কেউ অবস্থান নেয়নি।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিধানসভায় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেন।
আজ শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার এবং পশ্চিমবঙ্গে পরবর্তী প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণের কথা রয়েছে। কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ব্রিগেড গ্রাউন্ডে আজ বেলা ১১টায় এ শপথ হতে পারে। আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং অন্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জির টানা ১৫ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটল।
শুভেন্দু অধিকারী একসময় তৃণমূলে মমতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। নন্দীগ্রাম আন্দোলন ও ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের ইতি টেনে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার লড়াইয়ে মমতার শক্ত হাত ছিলেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। পরের বছর ২০২১ সালে বিধানসভার নন্দীগ্রাম আসনে মমতাকে পরাজিত করে প্রদেশে দলের স্পষ্ট পছন্দের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শুভেন্দু মমতাকে তার ঐতিহ্যবাহী শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর আসনে ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
সভায় বক্তৃতায় অমিত শাহ বলেন, বিধানসভায় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় আটটি প্রস্তাব এসেছিল।
সব প্রস্তাবে একটাই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় কোনো নাম আসেনি। এই বলে তিনি দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কমিউনিস্ট আমল থেকে যে নেতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, মমতা ব্যানার্জি তা আরও গভীর করেছিলেন। এখানে ভোট দেওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। বিজেপিকে নির্বাচিত করার জন্য অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দুজন উপমুখ্যমন্ত্রী প্রত্যাশিত : পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর সহযোগী হিসেবে দুজনকে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ দুটি পদের দাবিদার হলেন আসানসোলের বিধায়ক অগ্নিমিত্র পাল ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তবে মুখ্যমন্ত্রীর একটি পদে একজন নারী বিধায়ককে দল মনোনয়ন দিতে পারে। অমিত শাহ এসব বিষয়ে গতকাল পাল ও ঘোষের সঙ্গে আলাদাা বৈঠক করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গে গত দুই দশকে উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সিপিএম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, যিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসুর অধীনে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর মমতা মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানালে রাজ্যপাল আরএন রবি গত বৃহস্পতিবার বিধানসভা ভেঙে দিয়ে নতুন প্রশাসনের জন্য আইনি পথ পরিষ্কার করে দেন।
শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং গ্রামে গ্রামে দলের সংগঠন ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মমতার সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকলে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। দলবদলেই তিনি মমতা ও তার সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন।
বিজেপির প্রবীণ নেতারা বলেন, শুভেন্দুর সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক এবং মমতার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হওয়া তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
তামিলনাড়ুতে হচ্ছে থালাপতির সরকার : ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন করছে থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে)। কংগ্রেস, স্থানীয় দল ভিসিকে এবং বামপন্থি দুই দল সিপিআই ও সিপিএমের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করছে তারা।
বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে পায় ১০৮ আসন। এর মধ্যে বিজয় লড়েছিলেন দুটি আসনে। ফলে দলের বিধায়কের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য ২৩৪ আসনের বিধানসভায় প্রয়োজন ১১৮ বিধায়কের সমর্থন।
কংগ্রেসের আছে পাঁচটি আসন। আর ভিসিকে, সিপিআই ও সিপিএমের প্রত্যেক দলের দুটি করে আসন থাকায় সবমিলিয়ে টিভিকে ১১৮ বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।
