মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ মোতায়েন করছে ব্রিটেন। শনিবার (৯ মে) ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই একটি বহুজাতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই অঞ্চলে নৌ-নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
বিমান বিধ্বংসী এই ডেস্ট্রয়ারটি গত মার্চ মাসে ইরান যুদ্ধ শুরুর পরপরই সাইপ্রাসকে সুরক্ষা দিতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকেই এখন জাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মূলত লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তটি ফ্রান্সের পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সম্প্রতি ফ্রান্স তাদের একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে দক্ষিণ লোহিত সাগরে মোতায়েন করেছে। ব্রিটেন ও ফ্রান্স বর্তমানে যৌথভাবে একটি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘এইচএমএস ড্রাগনের এই অবস্থান গ্রহণ আমাদের সতর্ক পরিকল্পনার অংশ। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক জোটের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করতে আমরা প্রস্তুত থাকব।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ১০ সপ্তাহের যুদ্ধ পরিস্থিতি যখন কিছুটা স্তিমিত হওয়ার আভাস দিচ্ছে, তখনই ব্রিটেন ও ফ্রান্স এই নৌ-নিরাপত্তা প্রস্তাবটি সামনে নিয়ে এলো। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইরানের সঙ্গেও সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে। ইতিবাচক দিক হলো, বিশ্বের প্রায় এক ডজন দেশ এই মিশনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তবে এই বিশেষ মিশনে ব্রিটেনের পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তাও রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী বা রয়্যাল নেভি বর্তমানে আগের চেয়ে অনেকটা ছোট হয়ে পড়েছে। পুরোনো জাহাজগুলো অবসরে পাঠানো হলেও নতুন জাহাজ সময়মতো যুক্ত না হওয়ায় বর্তমানে সরঞ্জামের সংকটে ভুগছে তারা। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ব্রিটেন বৈশ্বিক বাণিজ্য পথ সুরক্ষিত রাখতে তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
