পটিয়ায় আমজু মিয়ার বলিখেলার ১১৭তম আয়োজন

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

চট্টগ্রামের পটিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন বলিরা। শনিবার (৯ মে) বিকেলে পৌর সদরের পাইকপাড়া এলাকার ঐতিহাসিক পরীর দীঘির পাড়ে আয়োজিত এ খেলায় অর্ধশতাধিক বলী অংশ নেন।

অনুষ্ঠিত বলিখেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। উদ্বোধন করেন আয়োজন কমিটির সচিব শাহজাহান চৌধুরী।

প্রতিযোগিতায় কক্সবাজারের মহেশখালীর মাসুম বলি সেরা বলির খেতাব অর্জন করেন। রানারআপ হন বোয়ালখালীর কাঞ্চন বলি। খেলা ঘিরে আশপাশের এলাকাসহ দূরদূরান্ত থেকে হাজারো দর্শকের সমাগম ঘটে।

পটিয়ায় একসময় তুফান আলী মুন্সির বলিখেলা, পরীর দীঘির বলিখেলা, ভাটিখাইনের বারেক চেয়ারম্যানের বলিখেলাসহ বেশ কয়েকটি বলিখেলার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। সময়ের ব্যবধানে এসব আয়োজন বিলুপ্ত হলেও এখনও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে আমজু মিয়ার বলিখেলা। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, সত্তরের দশক থেকে আমজু মিয়া সওদাগরের পরিবার নিয়মিত এ খেলার আয়োজন করে আসছে। তবে এর সূচনা আরও আগে। পঞ্চাশের দশকে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত আমজু মিয়া সওদাগর নিজ নামে এ খেলার প্রচলন করেন। তার মৃত্যুর পর ছেলে আবু মুছা সওদাগর দায়িত্ব নেন। বর্তমানে উত্তরসূরিরা ঐতিহ্যটি ধরে রেখেছেন।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, পটিয়ার পাইকপাড়ার পরীর দীঘির দক্ষিণ পাড়ে প্রথম বলিখেলার আয়োজন করেছিলেন প্রয়াত তোফায়েল আলী মুন্সী। পরে তার ছেলে মনির আহমেদও এ আয়োজন চালিয়ে যান। বৈশাখ মাসজুড়ে পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বলিখেলার আসর বসত, যা একসময় মানুষের প্রধান বিনোদন ছিল।

বলিখেলার উৎপত্তি নিয়ে নানা জনশ্রুতি রয়েছে। গবেষক ও কবি আলাদীন আলীনূরের মতে, পটিয়া ও সাতকানিয়ার মল্ল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মল্লক্রীড়া থেকেই বলিখেলার উদ্ভব। পরবর্তীতে তা সমগ্র চট্টগ্রামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

প্রবীণদের মতে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবকদের শক্তি, সাহস ও ঐক্যবদ্ধ করতে বলিখেলার আয়োজন করা হতো। ধীরে ধীরে এটি চট্টগ্রামের লোকঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। এখনও পটিয়ার মাটিতে সেই ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে চলছে আমজু মিয়ার বলিখেলা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত