ব্যাটিং ব্যর্থতায় শুরু, এরপর এলোমেলো বোলিংয়ের সঙ্গে ক্যাচ মিসের আক্ষেপ। সব মিলিয়ে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি হতাশায় মোড়ানো ছিল বাংলাদেশের জন্য। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন অকপটেই সব ভুল স্বীকার করে নেন। সঙ্গে এই আশার কথাও জানিয়ে রাখেন, ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আছে তার দলের।
তৃতীয় দিনের শুরুতে আভাস মেলে, এদিন আর কোনো ভুল নয়। দুই উইকেট নিয়ে ভালোর শুরুটা করে দেন ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর স্পিনে মেহেদী হাসান মিরাজের বাজিমাত। এ দুজনের দারুণ বোলিংয়ে তৃতীয় দিনটা মন মতোই কেটেছে স্বাগতিকদের।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ বিনা উইকেটে তুলেছে ৭ রান, মোট লিড দাঁড়িয়েছে ৩৪। প্রথম ইনিংসে লিড সামান্য হলেও স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ দলে। কারণ, দ্বিতীয় দিনে দাপুটে ব্যাটিং করা পাকিস্তান ১ উইকেটে তোলে ১৭৯ রান। সেই দলটিকেই ৩৮৬ রানে গুটিয়ে দেওয়া ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখাই। এই সাফল্যে বল হাতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া মিরাজ নেন ৫ উইকেট, টেস্টে এটা তার ১৪তম ৫ উইকেট। তাসকিন ও তাইজুল ইসলামের শিকার ২টি করে উইকেট। একটি উইকেট নেন নাহিদ রানা।
ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া গেছে। এবার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে ভালো করার লড়াই। ৫ উইকেট নেওয়ার আনন্দ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা মিরাজ জানিয়েছেন, জয় পেতে অথবা ম্যাচে নিরাপদ থাকতে ২৯০ থেকে ৩০০ রান করতে হবে। বাংলাদেশ অলরাউন্ডার বলেন, ‘এখনো দুই দিন বাকি আছে। ফল ফিফটি ফিফটি অবস্থায় আছে। কারণ, আমরা অনেক বেশি লিড পাইনি এবং দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে। মিরপুরে কত রান নিরাপদ, এটা আপনি বলতে পারবেন না। কিন্তু এমন রান যেন করতে পারি, যেটা আমরা বোলাররা ডিফেন্ড করতে পারি। তো আমার কাছে মনে হয়, ২৯০ বা ৩০০ রান ভালো স্কোর হতে পারে এই উইকেটে। কারণ চার-পাঁচ নম্বর দিনে অনেক কঠিন হবে। সব ব্যাটসম্যানকে এই দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে।’
তৃতীয় দিন বৃষ্টির হানা ছিল, দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। বৃষ্টি শেষে পাকিস্তানের ইনিংস দীর্ঘ হয় ১১.৫ ওভার। এর আগে দিনের শুরুতে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন তাসকিন, ফেরান অভিষেকেই সেঞ্চুরির স্বাদ নেওয়া আজান আওয়াইজকে। পাকিস্তানের ২১ বছর বয়সী এই ওপেনার ১৬৫ বলে ১০৩ রান করেন। ৯ রান করা শান মাসুদও তাসকিনের শিকার। এরপর কিছুক্ষণের ব্যবধানে ২টি উইকেট তুলে নেন মিরাজ। রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হওয়া সৌদ শাকিল ও ৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলা আরেক অভিষিক্ত আবদুল্লাহ ফজলকে থামান তিনি। ২০ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারানো দলকে ঠিক পথে ফেরান সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান।
পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিটি ভাঙেন বাংলাদেশর অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল। সালমান ৫৮ ও রিজওয়ান ৫৯ রান করেন। এ দুজন ফেরার পর সামান্য সময়ের জন্য টেকে পাকিস্তানের ইনিংস। শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদি করেন ১৩ রান।
