রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, নেত্রকোনার জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণে সমীক্ষা যাচাইসহ আনুষঙ্গিক কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বুধবার (১৩ এপ্রিল) নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যে সময়ের প্রয়োজন, তা আমাদের দিতে হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও রেলওয়ের মহাপরিচালক ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে, জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের দাবিটি তারা বাস্তবায়ন করতে চান। সমীক্ষা ও জরিপ সম্পন্ন হওয়ার পরেই সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে। তবে যেহেতু আমরা এখানে এসেছি, তাই আপনাদের বুঝতে হবে এই দাবি পূরণে আমাদের কোনো কৃপণতা নেই। আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে আমাদের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব।’
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগেও নেত্রকোনায় সীমান্ত সড়কে জলবায়ু সহিষ্ণু পাঁচটি সেতু বাস্তবায়নে যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তিনি হলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তেমনিভাবে আপনাদের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো। তবে সবার সামনে এই প্রকল্পের শেষ কাজটি যিনি করবেন তিনি হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
দেশের স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলে মিলেই বাংলাদেশ। আমরা যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করব যেন কেউ কোনো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে এবং গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার ভিত্তিতে আমরা যেন দেশকে গড়ে তুলতে পারি, সেটাই হোক আমাদের প্রত্যয়।’
সভায় জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ।
সভায় শিক্ষক, সাংবাদিক ও আদিবাসী প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন। সকলের বক্তব্যে জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রেললাইন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি উঠে আসে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে ঢাকার সাথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে এবং পর্যটন ও অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মালয়েশিয়ায় হত্যার শিকার রবিনের মরদেহ দেশে ফিরল