মারা গেল চোখে গুলিবিদ্ধ চট্টগ্রামের সেই শিশু

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

বাচাঁনো গেল না চোখে গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমি আক্তারকে (১১)। সাত দিন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিল সে।  আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, সাত দিন ধরে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। গুলিটি তার চোখ দিয়ে মাথায় ঢুকে যায়। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় গুলিটি বের করা যায়নি। আজ সকালে শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

এর আগে গত ৭ মে রাতে চট্টগ্রাম নগরের রৌফাবাদের বাঁশবাড়িয়া বিহারি কলোনি এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয় শিশু রেশমি। পুলিশ জানায়, বিহারি কলোনিতে বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন হাসান রাজু (২৪) নামের রাউজানের এক বাসিন্দা। তার ওপর হামলার উদ্দেশ্যে পাঁচ-ছয়জন যুবকের একটি সশস্ত্র দল কলোনিতে হানা দেন। মুখে মাস্ক পরা ওই যুবকেরা কলোনিতে ঢুকে রাজুকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে তাড়া করতে থাকেন। দৌড়ে পালানোর একপর্যায়ে রাজু মাটিতে পড়ে গেলে তাকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। 

আর রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয় পাশে থাকা শিশু রেশমি। ঘটনার রাতে মায়ের জন্য স্থানীয় দোকানে পান আনতে গিয়েছিল রেশমি। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই রাতেই রেশমিকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। শুরুতে তাকে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে রেখে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। 

সর্বশেষ গত শনিবার তার চিকিৎসায় ‘মেডিকেল বোর্ড’ বসেছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, রেশমির বাঁ চোখ দিয়ে গুলিটি মাথার ভেতরে প্রবেশ করে। তার মাথার পেছনের অংশে গুলিটি আটকে ছিল। এটি তার মস্তিষ্ক ছেদ করে গেছে। যার কারণে সেটি সরাতে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের আশঙ্কা ছিল। তাই মেডিকেল বোর্ড রেশমির অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেয়। শনিবার সকাল থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়৷

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত