মতলবে প্রচারণার অভাবে মুঠোফোনে স্বাস্থ্য সেবা ভেস্তে

আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশের মতো ৪ লক্ষাধিক জনবসতির চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মুঠোফোনে জরুরি স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার কার্যক্রম চালু হয়। কিন্তু এ সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা না থাকায় তা কোন কাজে আসছে না। 

শুধু কি তাই, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস নিজেই তার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মুঠোফোনের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম যে চালু এ সম্পর্কে তিনি নিজেই কিছু জানেন না। বরং তিনি জানান, তার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুঠোফোনে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম চালু করা গেলে এলাকাবাসী অনেক উপকৃত হতো। এই না জানার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করলেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী। 

অন্যদিকে, কোন রকম প্রচার-প্রচারণা না থাকায় উপজেলা সদরের ঘনিয়ারপাড়-ছেংগারচর এলাকাতে তো বটেই, উপজেলার চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনসাধারণের কাছে এই সেবা কার্যক্রমটি এখনো অজানাই রয়ে গেছে মানুষর কাছে।

জানা গেছে, ২০০৯ সালের মে থেকে সরকার দেশের ৪১৮টি জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুঠোফোনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করে।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লিটটি চালু হওয়ার পর থেকেই এই কার্যক্রমটি সংযুক্ত হয় বলে জানান হসপিটালে কর্মরত অন্যান্য স্টাফরা।

খোঁজখবর জানা যায়, জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাসপাতাল ও কমপ্লেক্সে একটি করে মুঠোফোন দেওয়া হয়। নিয়মানুযায়ী একজন মেডিকেল কর্মকর্তার দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা ওই মুঠোফোনের মাধ্যমে জনগণকে জরুরি চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ দেওয়ার কথা। ফোন নম্বরটি জন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রদর্শন ও প্রচারের সরকারি নির্দেশনাও রয়েছে। 

জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, শিক্ষকাপ্রতিষ্ঠাসহ  বিভিন্ন মাধ্যমে জনগণকে নম্বরটি জানাতে বলা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রচার  বা প্রদর্শনে উদ্যোগী না হওয়ায় মুঠোফোনে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম কার্যকর হয়নি। এই কার্যক্রমটি মতলব উত্তর উপজেলা একদম অকার্যকর বললেই চলে।

জনস্বাস্থ্যসেবা নয়, মূলত ফোনটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোঁজ খবরে জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে মুঠোফোনটি দেওয়া হয়েছে সেটির নম্বর ০১৭৩০-৩২৪৮৩৫। নিয়ম অনুযায়ী মুঠোফোনটি চব্বিশ ঘণ্টা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে থাকার কথা এবং সেখান থেকেই চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়ার কথা। 

সরেজমিনে উপজেলার চরাঞ্চল, ঘনিয়ারপাড়, ছেংগারচর, ফরাজীকান্দি, একলাশপুর, মোহনপুর, ষাটনল ও বাগানবাড়ি সহ বিভিন্ন অঞ্চলের  বেশ কয়েকজন মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ মানুষেরই মোবাইল বা  মুঠোফোনের মাধ্যমে এ ধরনের সেবা সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। 

উপজেলা বিএনপি'র সহ-সভাপতি ও ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল গনি তপাদার জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যদি উপজেলা হাসপাতাল থেকে জরুরী চিকিৎসা সেবা নেয়া যেত তাহলে অবশ্যই অনেক ভালো হতো। আর এ ধরনের জরুরী সেবার ব্যবস্থা উপজেলা হাসপাতালে আছে কিনা সেটা তিনি জানেন না। 

এ বিষয়ে কথাহলে উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বেনজির আহমেদ মুন্সি জানান, উপজেলা সরকারি হাসপাতালে যদি নির্দিষ্ট কোন মোবাইল নাম্বার থাকতো যে নাম্বার থেকে রাত বিরাতেও আমরা স্বাস্থ্যসভা নিতে পারতাম তাহলে অনেক ভালো হতো। এই উপজেলা হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার মতো জরুরি কোন মোবাইল নম্বর আছে কিনা তিনি এর কিছুই জানেন না বলে জানান।  

পৌরসভার কয়েকজন সচেতন নাগরিকের সাথে কথা হলে  তারা জানান, আমরা পৌরসভার নাগরিক হয়েও মোবাইল ফোনের এই চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে কিছুই জানি না। সেখানে আমাদের পৌরসভার সাধারণ মানুষ  জানবে কী করে? এই সেবা সম্পর্কে কোনো রকম প্রচার-প্রচারণা খুবই জরুরী বলে তারা মন্তব্য করেন।

সরেজমিনে উপজেলার ইমার্জেন্সি বিভাগে মুঠোফোনের জরুরী স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে একটি রেজিস্টার থাকার কথা জানালেও কেউ সেই খাতাটি বের করে দেখাতে পারেনি।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর একাধিক ডাক্তারের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তারা ইমারজেন্সিতে ডিউটিরত অবস্থায় মুঠোফোনে কেউ স্বাস্থ্য পরামর্শ নেওয়ার জন্য ফোন করেনি বলে জানান।

চাঁদপুর জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, চাঁদপুরের সবগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি স্বাস্থ্য সেবার দিতে মুঠোফোনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমটি চালু রয়েছে। যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত চমৎকার একটি ব্যবস্থাপনা।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত