ভারতের সঙ্গে কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারতকেন্দ্রিক যে শক্তি বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে, সিভিল ফরম্যাটে থাকা আওয়ামী লীগের সেই শক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত রাজশাহী মহানগর ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ভারতের সঙ্গে কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলবে না। যদি বলা হয় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, তাহলে সীমান্তে মানুষ কেন হত্যা হচ্ছে-সেই প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে।
রাজশাহীর কৃষি ও আমশিল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজশাহীর আম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলেও কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কৃষক কম দামে আম বিক্রি করলেও রাজধানীতে তা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর জন্য মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেট দায়ী।
আম সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহীকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।
পানি সংকট প্রসঙ্গে নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, রাজশাহীবাসীর নদীতে পানি চাই। নদীর পানির প্রশ্নে কোনো আপোষ করা হবে না। খাল খননের আগে নদীতে পানি আনতে হবে। প্রয়োজনে পানির অধিকারের জন্য আবারও লং মার্চ হবে।
তিনি বলেন, রাজশাহীতে বহু বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি। তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী সালাউদ্দিন তানভীর, জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবসের প্রসঙ্গ তুলে নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, মাওলানা ভাসানী গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। তার আদর্শ ধারণ করতে হলে সেই নীতিও অনুসরণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি আগামী দিনে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতারা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের এক হাজারের বেশি নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগদান করেন।
