ব্যস্ত জীবনযাত্রা, বাইরের ফাস্টফুড খাওয়ার প্রবণতা, অনিয়মিত ডায়েট ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে আজকাল খুব কম বয়সীদের মধ্যেই কোলেস্টেরলের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যাটি প্রথমদিকে বাইরে থেকে খুব একটা বোঝা যায় না।
এ কারণেই চিকিৎসকেরা একে ‘নীরব ঘাতক’ বলে থাকেন। তবে বুকে ব্যথা বা বড় কোনো বিপদ ঘটার আগেই শরীর কিছু ছোট ছোট ইঙ্গিত দেয়, যা অবহেলা করা একদমই ঠিক নয়।
শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে রক্তনালির ভেতরে চর্বি জমতে শুরু করে। এতে রক্ত চলাচল বাধা পায় এবং হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ে।
দীর্ঘদিন এই সমস্যা অবহেলা করলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা মারাত্মক হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। চলুন, জেনে নিই উচ্চ কোলেস্টেরলের প্রধান লক্ষণগুলো।
ত্বক ও চোখের পরিবর্তন : চোখের চারপাশে বা ত্বকের ওপরে হলদেটে ছোট ছোট দাগ বা ফোলা অংশ দেখা দেওয়া, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘জ্যানথোমা’ বলা হয়। এ ছাড়া চোখের মণির চারপাশে ধূসর বা সাদা রঙের রিং দেখা দিতে পারে।
পায়ে ব্যথা ও ঝিনঝিন ভাব : হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা হওয়া, পায়ে ঝিনঝিন করা কিংবা হাত-পা ঠাণ্ডা ও অবশ হয়ে যাওয়া। রক্ত চলাচল কমে যাওয়ায় পেশিতে ঠিকমতো অক্সিজেন না পৌঁছানোর কারণে এমনটা হয়।
ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট : অকারণে অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, সামান্য কাজেই হাঁপিয়ে যাওয়া এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণ
অতিরিক্ত তেল-ঝাল ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, ফাস্টফুড, ধূমপান, মদ্যপান, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এই সমস্যার মূল কারণ। এ ছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে পারিবারিক বা বংশগত কারণেও কোলেস্টেরল বাড়তে পারে।
করণীয় ও প্রতিরোধ
চিকিৎসকদের মতে, শুধু লক্ষণ দেখে কোলেস্টেরল নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (লিপিড প্রোফাইল) করানো খুব জরুরি। বিশেষ করে পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা, খাবারে শাকসবজি ও ফলের পরিমাণ বাড়ানো, তেলেভাজা ও ফাস্টফুড পরিহার করা এবং ধূমপান পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত। সময়মতো সচেতন হলে এই বড় বিপদ থেকে শরীরকে মুক্ত রাখা সম্ভব।
সূত্র : আজকাল
