‘নেদারল্যান্ডস যে কোনো দলকেই হারাতে পারে’, প্রতিপক্ষকে হুঙ্কার ডাচ কোচের

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ফেবারিটের তালিকায় ওপরের দিকে না রাখা হলেও, ডাচদের দলগত সামর্থ্য নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দিহান নন কোচ রোনাল্ড কোম্যান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিরোপার দৌড়ে বড় দলগুলোর মতো প্রচার-আলো ছড়াতে না পারলেও, বিশ্বমঞ্চে যেকোনো পরাশক্তিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো যথেষ্ট বারুদ রয়েছে তাঁর স্কোয়াডে।

ফিফা-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ৬৩ বছর বয়সী এই ডাচ কোচ তাঁর দল, রণকৌশল এবং প্রতিপক্ষদের নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী সাক্ষাৎকারের মূল অংশগুলো নিচে দেওয়া হলো:

উত্তর আমেরিকায় আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা স্পেনের মতো দলগুলোকে ট্রফি জয়ের হট-ফেবারিট মানছেন ফুটবল বোদ্ধারা। এই প্রসঙ্গে নেদারল্যান্ডসকে আড়ালে রাখার বিষয়টি নিয়ে কোম্যান বলেন:

"মানুষ হয়তো আমাদের বিশ্বকাপের ফেবারিট দলগুলোর একটি হিসেবে দেখছে না। তবে নেদারল্যান্ডসের আসল শক্তি এখানেই যে, আমরা যেকোনো প্রতিপক্ষকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারি। আমাদের স্কোয়াডে সেই দক্ষতা ও সামর্থ্য পুরোপুরি আছে।"

লুই ফন গালের অধীনে গত কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা নেদারল্যান্ডস দলের দায়িত্ব ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো কাঁধে নেন কোম্যান। এখনও বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা না করলেও দল সঠিক পথেই আছে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

নিজের দল মাঠে কেমন ফুটবল খেলবে, তা নিয়ে কোম্যানের একটি সুনির্দিষ্ট দর্শন রয়েছে। তিনি চান ডাচ ফুটবলাররা মাঠে ভয়হীন এবং আগ্রাসী ফুটবল খেলুক। কোচের ভাষায়:

"আমি চাই মানুষ আমার দল সম্পর্কে বলুক যে, তারা মাঠে প্রচণ্ড তীব্রতা (হাই-ইনটেনসিটি) নিয়ে খেলে। কেউ যেন আমাদের দিকে আঙুল তুলে বলতে না পারে যে আমরা শতভাগ চেষ্টা করিনি। আমি চাই ছেলেরা নিজেদের সামর্থ্য বুঁজে মাঠে আত্মবিশ্বাস ও নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ছাপ রেখে খেলুক।"

 

‘ছোট দল’ বলে অবহেলার সুযোগ নেই

গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডসের প্রথম ম্যাচ শক্তিশালী জাপানের বিপক্ষে। গ্রুপের বাকি দুই প্রতিপক্ষ সুইডেন এবং তিউনিসিয়া। বিশ্বকাপে কোনো দলকেই খাটো করে দেখার ভুল করতে চান না এই ডাচ মাস্টারমাইন্ড। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন:

"বিশ্বকাপের মঞ্চে তথাকথিত 'ছোট দেশ' থাকলেও আমাদের প্রতিটি প্রতিপক্ষকে সমান সম্মান দিতে হবে। বিশ্বকাপের প্রতিটা ম্যাচই আলাদা এবং এখানে নিজেদের ভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো ছোট দলের কাছে আমরা হুট করে অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা না খাই।"

ইতিহাসে তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে রানার্স-আপ হওয়া ডাচরা এবার কোম্যানের এই ‘ভয়হীন ও লড়াকু’ মানসিকতা নিয়েই উত্তর আমেরিকার মাঠে তাদের ভাগ্য বদলাতে নামবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত