দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর ইউরোপীয় ফুটবলের মঞ্চে আবারও শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরল ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা। গত বুধবার রাতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের বেশিকতাস পার্কে অনুষ্ঠিত উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনালে জার্মান ফ্রাইবুর্গকে ৩-০ ব্যবধানে অনায়াসে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে উনাই এমেরির শিষ্যরা। ১৯৮২ সালে ইউরোপীয় কাপ (বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ) জয়ের ৪৩ বছর পর এটিই ভিলার প্রথম কোনো বড় ইউরোপীয় শিরোপা। একই সঙ্গে ১৯৯৬ সালের লিগ কাপের পর গত ৩০ বছরে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মঞ্চ মিলিয়ে এটি ক্লাবটির প্রথম ট্রফি।
ক্লাবের এই ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ের রাতে নতুন এক বীরত্বগাথার জন্ম দিয়েছেন ভিলার আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ। ম্যাচ শেষে জানা গেছে, ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে তিনি খেলেছেন হাতের আঙুল ভাঙা নিয়ে!
ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মান ক্লাব ফ্রাইবুর্গের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে অ্যাস্টন ভিলা। তবে ডেডলক ভাঙতে তাদের অপেক্ষা করতে হয় ৪১ মিনিট পর্যন্ত। কর্নার থেকে মর্গান রজার্সের ভাসিয়ে দেওয়া বলে চমৎকার এক নিচু ভলিতে গোল করে ভিলাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার ইউরি টাইলেমানস।
প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রথমার্ধের ঠিক অন্তিম মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্জেন্টাইন প্লেমেকার এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। ফ্রাইবুর্গ ডিফেন্ডারদের স্তব্ধ করে দিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দর্শনীয় এক বাঁকানো শটে জালে জড়ান বল। ৫৮ মিনিটে ফ্রাইবুর্গের ম্যাচে ফেরার সব আশা শেষ করে দেন মর্গান রজার্স। বুয়েন্দিয়ার নিচু ক্রস থেকে নিপুণ ছোঁয়ায় বল জালে পাঠিয়ে ভিলার ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে ট্রফি জয়ের আনন্দে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মার্তিনেজ। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক জানান ভাঙা আঙুল নিয়ে ম্যাচ খেলেছেন তিনি, ‘ম্যাচ চলাকালে প্রতিবার যখন আমি বল ধরছিলাম, আঙুলটি অন্য দিকে বেঁকে যাচ্ছিল। কিন্তু ট্রফি জিততে হলে আপনাকে এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতেই হবে। আমি আমার সেরাটা দিয়েছি।’
অ্যাস্টন ভিলার জন্য এই জয় যেমন আনন্দের, ঠিক তেমনি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ২২ দিন আগে প্রধান গোলরক্ষকের আঙুল ভাঙার এই খবর আর্জেন্টিনা শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে। কোচ লিওনেল স্কালোনি যখন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড গোছাতে ব্যস্ত, তখন মার্তিনেজের এই চোটের ওপর কড়া নজর রাখছে আলবিসেলেস্তেদের মেডিকেল টিম। তবে মার্তিনেজ আশাবাদী, দ্রুতই সুস্থ হয়ে তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পোস্ট সামলাতে পূর্ণ মনোযোগ দেবেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপা লিগের ‘রাজা’ খ্যাত কোচ উনাই এমেরি এই প্রতিযোগিতায় নিজের পঞ্চম শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়লেন (সেভিয়ার হয়ে ৩টি, ভিয়ারিয়ালের হয়ে ১টি এবং এবার অ্যাস্টন ভিলার হয়ে)। এই ট্রফি জয়ের মাধ্যমে তিনি কার্লো আনচেলত্তি, জোসে মরিনহো ও জিওভানি ট্রাপাতোনির মতো কিংবদন্তিদের পাশে বসে ৫টি ইউরোপীয় ট্রফি জয়ের এলিট ক্লাবে প্রবেশ করলেন।
