মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম উন্নত করা এবং পাশেই একটি স্ইুমিং পুল তৈরি করার প্রক্রিয়া কিছু আগে শুরু করেছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবির অ্যাডহক কমিটি। সেখানে অবদান রাখছেন জাতীয় ক্রিকেটাররাও। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে যে বোনাস পাওয়ার কথা তাদের, সেই অর্থ তারা দিচ্ছেন বিসিবির এই উদ্যোগে।
র্যাংকিংয়ের বিভিন্ন ধাপ অনুযায়ী বিভিন্ন দলকে হারানোর জন্য বোনাসের ব্যাপারটি বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতেই আছে। টেস্ট র্যাংকিংয়ের ছয় নম্বর দল পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করায় ভালো অঙ্কের টাকাই পাওয়ার কথা ক্রিকেটারদের।
তবে বিসিবিতে গতকাল তামিম সাংবাদিকদের জানান, এবারের বোনাসকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দিয়েছেন ক্রিকেটাররা, যেটায় উপকৃত হবেন সব পর্যায়ের ক্রিকেটাররা, ‘‘বাড়তি কিছু তারা ডিজার্ভ করে। তবে ক্রিকেটারদের তরফ থেকেও একটা জিনিস এসেছে, যেটা আমি খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করি যে, ওরা বলেছে- ‘ভাইয়া বোনাস আমাদের দরকার নেই। আপনি যদি একটা খুব সুন্দর করে একদম বেস্ট অব দা বেস্ট ফ্যাসিলিটিজ দিয়ে জিমটা আর সঙ্গে সুইমিং পুলটা করে দেন, তাহলে আমরা এটা আমাদের বোনাস হিসেবে ধরে নেব’।”
তামিম বলেন, ‘ওদের বোনাসের টাকাতেই সব হবে না, এটা করতে তো আরও অনেক বেশি টাকা লাগবে। তবে তারা তাদের তরফ থেকে এই অবদান রাখতে চায়। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা তৈরি ছিলাম। বোনাস দেওয়া লাগলে অবশ্যই দিতাম। তবে তারা শুধু নিজেদের কথা চিন্তা করেনি। তাদের ছোট ভাইয়েরা, অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২৩, এইচপি (হাই পারফরম্যান্স), তারাও এই ফ্যাসিলিটিজগুলো ব্যবহার করবে।’
মিরপুরে যে জিম এখন ব্যবহার করেন ক্রিকেটাররা, সেটি বেশ পুরনো হয়ে গেছে এবং আধুনিক সময়ের থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। সুইমিং পুল নির্মাণের ভাবনা বিসিবির অনেক বছরের, কিন্তু সেটি বাস্তবায়নের কোনো প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। বিভিন্ন সিরিজে বা ক্যাম্পের সময় পাঁচ তারকা হোটেলে সাঁতারের ব্যবস্থা করা হয়।
তামিম জানালেন, এবার জিম ও সুইমিংপুল হবে সর্বাধুনিক, ‘আমি তাদের বলেছি যে পৃথিবীর সেরার সেরা যে ইকুইপমেন্টস আছে, সেগুলো দিয়ে আমরা এই জিমটাকে খুব সুন্দরভাবে করে দেব। সঙ্গে সামনে সুইমিং পুল করে দেব। আইস বাথ, হট বাথের জন্য যেটা সাম্প্রতিকতম প্রযুক্তি, বারবার আইস এনে আইস বাথ করতে হবে না। মেশিনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ঠা-া করবে আর গরম করবে। ওগুলো যত কিছু আছে, আমরা করে দেব। এর মধ্যেই আমরা এই প্রক্রিয়াগুলো শুরু করে দিয়েছি।’
এখন যে জায়গায় জিম আছে, সেখানেই জায়গা বাড়িয়ে সংস্কার করা হবে। পাশে এক চিলতে খালি জায়গা আছে, সেটি কাজে লাগানো হবে সুইমিং পুলের জন্য, ‘এই জিমটাকেই পুরো সংস্কার করব। এই জায়গায় একটা স্টিলের কাঠামো করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমতি নিয়ে সুইমিং পুল হবে, আইস বাথ আর হট বাথের জন্য ফ্যাসিলিটিজ থাকবে, সঙ্গে চেঞ্জিং রুম এবং সবকিছু। যারা খেলার মধ্যে আছে, তারা ব্যবহার করবেই। কিন্তু যারা ইনজুরিতে আছে, ওদের জন্যও একটা রিকভারির জায়গা হয়ে যাবে।’
