নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত সাড়ে দশটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১১ টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, "আমাদের পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে। আগুনে গাড়িটির অনেকটা পুড়ে গেছে।"
এর আগে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান ঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। লোকজন রাস্তায় অবস্থান নিয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে রাখায় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এ সময় দুই সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হন।
পুলিশ জানায়, চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় একটি ডেকোরেশনের কর্মচারী তিন বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনায় জড়িত ডেকোরেশনের কর্মচারীকে আটক করে। কিন্তু থানায় আনার পথে বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ধর্ষণের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ জড়িত আসামিকে আটক করে। শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়। আটক করে আসামিকে আনার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন পথ আটকে দেন।
আমরা ঘটনাস্থলে যাবার আগ থেকেই এলাকার লোকজন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে আসছেন। আমরা গিয়ে অবরুদ্ধ ভবন থেকে অভিযুক্তকে আটকের পর আর বের হতে পারছি না। অবস্থা এখন খুবই খারাপ। মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে গেছে। তবে আটক ব্যক্তি আমাদের হেফাজতে নিরাপদে আছেন’, জানান ওসি।
এদিকে এ ঘটনার সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন দুই সাংবাদিক। তারা হলেন, চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সাংবাদিক মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান। চট্টগ্রামের প্রতিদিনের প্রকাশক আয়ান শর্মা বলেন, লাইভ দেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে মামুন কোমরে এবং নোবেল হাতে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তাদের দুজনকে প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
