নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মিছিলের পরদিনই একটি রেস্তোরাঁয় গোপন বৈঠকের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে চাষাঢ়ার ‘গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্ট’ থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান। আটককৃতরা সকলেই চাঁদপুর মতলবের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরীর অনুগামী নেতা বলে জানা গেছে।
আটককৃতরা হলো খোরশেদ আলম অপু, মেহেদী ও সোহেল। আটককৃতদের মধ্যে খোরশেদ আলম অপু চাঁদপুর জেলার মতলব থানাধীন ছেঙ্গারচর পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও পৌর সেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অপর আটককৃত মেহেদী ছেঙ্গারচর পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরী ও তার পুত্রের সঙ্গে তাদের একাধিক ছবি রয়েছে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা হত্যার ঘটনায় দু’টি মামলায় তারা এজাহারনামীয় আসামী বলে জানা গেছে।
শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইসলামী ছাত্র শিবির, এনসিপি ও তাদের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা চাষাঢ়ার একটি রেস্তোরাঁয় আওয়ামী লীগের ‘গোপন বৈঠক’ চলছে বলে স্ট্যাটাস দেন। এরপর ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ‘গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্ট’ নামে ওই রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায় পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “চাষাঢ়ায় মূলত চাঁদপুরের একটি সংগঠনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তবে, এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরাও ছিল। চাঁদপুরের এক ভাইয়ের কিছু গ্রুপ ছিল, সেখান থেকেই আমাদের গতকাল বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে। পরে আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানাই।
আজ জুমার নামাজের পর থেকেই আমাদের লোকজন বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ঘোরাঘুরি করে বিকেল তিনটার দিকে আমরা একটি রেস্টুরেন্টে তাদের দেখতে পাই, যোগ করেন ছাত্রশিবিরের ওই নেতা। শুরুর দিকে জানালেও পুলিশ সেখানে যেতে দেরি করায় ‘বৈঠকে’ থাকা নেতাদের অনেকেই রেস্তোরাঁ থেকে সরে যেতে সক্ষম হন বলে দাবি অমিতের। অন্তত ৪০ থেকে ৫০ নেতা-কর্মীর একটি দল রেস্তোরাঁয় বসবে বলে তথ্য ছিল জানিয়ে ওই ছাত্রনেতা আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আগেরদিনের মিছিলেও ছিলেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
পুলিশের অভিযানের সময় সেখানে থাকা এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান গণমাধ্যমকে জানান, ‘নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপনে বৈঠকের চেষ্টা করেছিলেন। এরা যুবলীগের একটি কমিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুল নিয়েও এসেছিলেন। প্রথমে ‘কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে’ যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেছে বুঝতে পেরে তারা স্থান পরিবর্তন করে।’ ‘আমাদের রাজনৈতিক সোর্স থেকে জেনেছি। টেকনিক্যালি তথ্যটা প্রথমে ছাত্রশিবিরের কাছে আসে। পরে তারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে,’ যোগ করেন নিরব।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর বলেন, চাষাঢ়ায় একটি রেষ্টুরেন্টে রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের গোপন মিটিং চলছে এমন খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বৈষম্যবিরোধী ছা্ত্র জনতার আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আজমেরী ওসমানের অনুসারী যুবলীগের কর্মী-সমর্থকরা গত বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের চাষাঢ়ায় মিছিল করে। লাল কাপড়ে মুখ ঢেকে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেন মিছিলকারীরা। এর আগেও তারা ফতুল্লার বিভিন্নস্থানে মুখে কাপড় বেধে মিছিল করেছে।
