দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। কিন্তু এই সংস্থাকে পাশ কাটিয়ে ‘জাতীয় ক্রীড়া অধিকার পরিষদ’ নামে আরেকটি সংগঠনের আবির্ভাব ঘটেছে। অথচ এ বিষয়ে কিছুই জানে না জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে কয়েকজন ক্রীড়াবিদ ও সংগঠককে পুরস্কার প্রদান করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন বিগত সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য দুলাল হোসেন। ফলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পাশাপাশি ‘জাতীয় ক্রীড়া অধিকার পরিষদ’ নামে গঠিত এই সংগঠনটি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
গত ৮ মে বেশ ঘটা করেই প্রায় ২০ জন ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তবে আওয়ামী লীগের ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য হওয়ায় দুলাল হোসেনের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি সাবেক ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার সুমন কিংবা বিশেষ অতিথি হিসেবে নাম থাকা ক্রীড়া সংগঠক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান। এ বিষয়ে রেদোয়ান বলেন, ‘দুলাল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি আমাকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু তার অনুষ্ঠানে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’
অন্যদিকে, জাতীয় ক্রীড়া অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে নাম রয়েছে বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জিএম কামরুল ইসলামের। নিজের নাম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল সভাপতি পদে আমার নাম থাকবে। কিন্তু আমি কিছুই বলিনি। তারপরও আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। আমি এসবের মধ্যে নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানা মতে, এই সংগঠন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’
এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মো. আমিনুল এহসান বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া অধিকার পরিষদ নামে সরকারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো সংগঠন নেই। তারা আমাদের স্বীকৃত কোনো সংগঠনও নয়।’
